বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কমিটির মূখ্য সংগঠক ফারদিন আহমেদ নিরব হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ ছাত্রজনতা তিনটি বাসে আগ্নিসংযোগসহ একটি পাম্পে ব্যাপক ভাংচুর করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে পাম্পে জ্বালানি তেল কেনা নিয়ে কথাকাটাকাটির জের ধরে পাম্পের শ্রমিকদের পিটুনীতে নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা নিরব। এই ঘটনার জের ধরে কতিপয় ছাত্রজনতা গভীর রাতে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে জে লাইন, জে আর ও রয়েল পরিবহনের তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। মুহূর্তের মধ্যে বাস তিনটি আগুনে পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে একই সময়ে ঘটনার জের ধরে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর বাসষ্ট্যান্ডে অবস্থিত সৃজনী পাম্পে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায় বিক্ষুদ্ধ ছাত্রজনতা।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতা নিবর হত্যার প্রতিবাদে ঝিনাইদহের ‘দ্যা রেড জুলাই’ সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব আবু হাসনাত তানাইম এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের এক সহযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
নিহত নিরবের পিতা আবুল কাশেম জানান, মোটরসাইকেলে তেল না দিয়ে অন্যদের বোতলে তেল দেওয়ার প্রতিবাদ করায় তাজ পাম্পের কর্মীরা নিরবকে মারধর করে। পরে নিরব মারা যায়। তিনি তার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেছেন। ঘটনার পর ঝিনাইদহ শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সামসুল আরেফির জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সাথে র্যাব ও সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত তাজ ফিলিং ষ্টেশনের মালিক ঝিনাইদহের আওয়ামীলীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৃজনী বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুন অর রশীদ ওরফে সৃজনী হারুন। পাম্পটিতে শনিবার রাত আটটার দিকে জ্বালানী তেল কেনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র নেতা আল মিরাজ নিরবকে পিটিয়ে জখম করে পাম্পের কর্মচারীরা। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিরব মারা যায়।
ইরানে মার্কিন সেনা আটকের দাবি, ওয়াশিংটনের অস্বীকার