চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯ ইউনিয়নের প্রায় ৭০০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। এসব সড়কে চলাচল করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রোগীসহ বিভিন্ন পথচারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বেশিরভাগ সড়কেরই একপাশের মাটি ধসে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ইট সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এক প্রকার বাধ্য হয়েই এসব সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
লোহাগাড়ার পদুয়া, আমিরাবাদ ও চুনতি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সড়কের ইট উঠে গিয়ে মাঝখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি খালের পার্শ্ববর্তী সড়কের অংশ ধসে পড়ে রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে। সেখান দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে যানবাহন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। সড়ক সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ থাকলেও দুর্নীতির কারণে স্থানীয় অনেক গ্রামীণ সড়ক সংস্কার হয়নি বলে মনে করছেন অনেকে।
লোহাগাড়া এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলায় প্রায় এক হাজার কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩০০ কিমি সড়ক চলাচলের উপযোগী। বাকি ৭০০ কিমি সড়ক দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। চুনতি ইউনিয়নে ১১০ কিমি, পদুয়া ইউনিয়নে ১৫৪ কিমি, পুটিবিলা ইউনিয়নে ৬৮ কিমি, আধুনগর ইউনিয়নে ৫৫ কিমি, বড়হাতিয়া ইউনিয়নে ১২৪ কিমি, কলাউজান ইউনিয়নে ৯১ কিমি, আমিরাবাদ ইউনিয়নে ৮০ কিমি, চরম্বা ইউনিয়নে ১০৬ কিমি ও লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে ৫২ কিমি গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের বেশিরভাগ জায়গায় ইট উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো সড়কে বিগত ১০-১৫ বছরেও কোনো সংস্কার কাজ হয়নি।
লোহাগাড়া চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশা এলাকার শিক্ষক মাহবুবর রহমান বলেন, চুনতির দুর্গম এলাকা ম-ুলার চর সড়কটি সংস্কার হচ্ছে না দীর্ঘদিন ধরে। ফলে এ সড়কে শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার লোকজন লোহাগাড়া সদরে পৌঁছাতে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি এ এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রিতেও কৃষকদের নানা ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
লোহাগাড়ার পদুয়ার ছাটিয়াল পাড়ার সড়কের বাসিন্দা আলী আহমদ বলেন, এ সড়কে অনেক চেয়ারম্যান-মেম্বারের বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও সড়কটি ১০-১৫ বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী। আমরা কয়েক হাজার বাসিন্দা এ সড়কে চলাচলে নানা দুর্ভোগের শিকার।
লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সাল থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু কিছু সড়কে সংস্কারের কাজ হয়েছে। তবে বরাদ্দ সংকটের কারণে অধিকাংশ সড়কে সংস্কার করতে পারিনি। তবে তিনি পরিষদের আর্থিক বরাদ্দের নয়ছয়ের বিষয়টি একেবারে অস্বীকার করেন।
লোহাগাড়া উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. শফিক বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে রাস্তার উন্নয়নে যে বাজেট দেওয়া হয়েছে তা সঠিকভাবে ব্যয় করেছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা উপজেলা প্রশাসনের খোঁজ নেওয়া দরকার। তদন্ত করা দরকার বিগত সময়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে কি না? তা না হলে এত গ্রামীণ সড়ক এভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয় কীভাবে?
লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, লোহাগাড়া উপজেলার বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কের অবস্থা কিছুটা নাজুক। ইতিমধ্যে আমরা গ্রেটার সিটিজি-৪ নামে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া স্থানীয় সাংসদের নির্দেশনায় আরও ১৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। এ প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা হলে লোহাগাড়ার অধিকাংশ সড়ক সংস্কার সম্পন্ন হবে। বিগত বছরগুলোতে অর্থ বরাদ্দ কম থাকায় রাস্তার সংস্কার হয়নি বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সরাকারি অর্থের নয়ছয়ের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, লোহাগাড়ার গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের জন্য বর্তমান স্থানীয় সাংসদের নির্দেশনায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
