মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণান্ত চেষ্টা

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ১২:৪০ এএম

বসন্তের ফুরফুরে হাওয়ার মতোই টাঙ্গাইলের তাঁত এলাকাগুলোতে এখন এক অন্যরকম আনন্দের শিহরণ। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, লোকসান আর অনিশ্চয়তার চাদর সরিয়ে আবারও ‘খটখট’ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে দেলদুয়ারের পাথরাইল, সদর উপজেলার বাজিতপুর এবং কালিহাতীর বল্লা-রামপুর। আসন্ন ঈদুল ফিতর ও বৈশাখ সামনে রেখে ঝিমিয়ে পড়া এই শিল্পে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

জানা যায়, উনিশ শতকের শেষভাগে টাঙ্গাইলের বাজিতপুর, পাথরাইল, নলসন্ধ্যা ও চ-ী এলাকার বসাক সম্প্রদায়ের তাঁতিদের হাত ধরে এই শিল্পের বিকাশ ঘটে। সিল্ক, কটন, জামদানি ও সফট সিল্কের নিপুণ কারুকাজে তৈরি এই শাড়ি এর সূক্ষ্ম বুনন ও বৈচিত্র্যময় পাড়ের নকশার জন্য অনন্য। মাছ, পদ্ম বা লতার মোটিফ সমৃদ্ধ এই শাড়ি ওজনে হালকা এবং পরতে আরামদায়ক হওয়ায় যুগ যুগ ধরে এটি বাঙালি নারীর প্রথম পছন্দ।

সূত্রমতে, টাঙ্গাইল জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার তাঁত রয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। মাঝখানে মন্দার কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার চালু হতে শুরু করেছে।

টাঙ্গাইল জেলা শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল, চ-ী, নলুয়া এবং কালিহাতীর বল্লা ও রামপুর এলাকা এখন অনেকটা উৎসবমুখর। তাঁতিরা দিনরাত এক করে বুনছেন জামদানি, সিল্ক, সফট সিল্ক এবং টিস্যু সিল্কের মতো আকর্ষণীয় শাড়ি। বর্তমান বাজারে টাঙ্গাইল শাড়ি মানভেদে ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎসবের সময় ৫ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অনলাইন ও অফলাইন উভয় মার্কেটেই টাঙ্গাইল শাড়ির চাহিদা রয়েছে। সরাসরি হাটের পাশাপাশি বর্তমানে ই-কমার্স এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যাপক বেচাকেনা হচ্ছে।

সূত্রমতে, ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে এ বছর টাঙ্গাইলে প্রায় ২৪ লাখ শাড়ির বিপরীতে ৩৫০ কোটি টাকার শাড়ি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা দামের শাড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আজকাল শাড়ির পাশাপাশি বেশিরভাগ ফ্যাক্টরিতে থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবির কাপড় তৈরি করতে দেখা গেছে।    

পাথরাইল এলাকার তাঁতি রহমত আলী জানান, গত বছর ঈদের আগে ঘরে চাল ছিল না বেচাকেনা না থাকা ও ‘মব’-এর ভয়ে মালিকও টাকা দিতে পারেননি। এবার মালিক অগ্রিম টাকা দিয়েছেন, দিনরাত কাজ চলছে।

টাঙ্গাইল জেলা শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, ঐতিহ্যের সুতোয় বোনা এই শিল্পে জড়িতরা এখন শুধু বেঁচে থাকার লড়াই করছে না বরং বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর নতুন স্বপ্নে বিভোর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত