মায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করতে হেলিকপ্টারে করে মাকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী দুই ভাই। তাদের এই ব্যতিক্রমী আগমনে নরসিংদীর বেলাবো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। এ সময় শত শত মানুষ হেলিকপ্টার দেখতে ভিড় করেন।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে যাত্রা করে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছান মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. হানিফ মিয়া ও তার ছোট ভাই মানিক বাদশা ক্বাদরী।
হেলিকপ্টারটি গ্রামের একটি মাঠে অবতরণ করলে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীরা ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন। এ সময় হেলিকপ্টারে করে প্রবাসী দুই ভাইয়ের আগমনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও উৎসুক মানুষ ভিড় করেন। অনেকেই প্রথমবারের মতো কাছ থেকে হেলিকপ্টার দেখার অভিজ্ঞতা পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় ভাই হানিফ মিয়া প্রায় ১৪ বছর ধরে এবং ছোট ভাই মানিক বাদশা ক্বাদরী প্রায় এক যুগ ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত রয়েছেন। বড় ভাই মাঝেমধ্যে দেশে এলেও ছোট ভাই দীর্ঘদিন পর এবার দেশে ফিরেছেন। তাদের মায়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল, বিদেশ থেকে ছেলেরা ফিরে এলে তাকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে আসবেন। সেই ইচ্ছা পূরণ করতেই দুই ভাই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন।
হানিফ মিয়ার বন্ধু মো. কামরুজ্জামান রাসেল বলেন, দীর্ঘদিন পর বন্ধু দেশে ফিরেছে। সে এবং তার ভাই পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে দেশে এসেছে। তাদের এই ব্যতিক্রমী আগমনে আমরা খুব আনন্দিত।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকির ফরাজী বলেন, তাদের মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলেদের সঙ্গে হেলিকপ্টারে করে বাড়ি ফিরবেন। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে দেখে আমরা খুবই আনন্দিত।
প্রবাসী মানিক বাদশা ক্বাদরী বলেন, আমাদের মায়ের স্বপ্ন ছিল বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর তাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে করে বাড়ি ফিরব। আল্লাহর রহমতে আজ আমরা সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। মায়ের মুখে হাসি দেখতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
গ্রামবাসীরা জানান, প্রবাসী দুই ভাইয়ের এই ব্যতিক্রমী আগমন এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং এটি তাদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেন জামায়াতের এমপি, খেলেন রোগীদের সাধারণ খাবার