বিয়ের দিনেই মরণযাত্রা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:১৩ এএম

বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছেলের বিয়ে ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। সকালেই বরযাত্রী নিয়ে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় যান তারা। সেখানে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে বিকেলে বাড়ির ফেরার পথে রামপাল উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজের কাছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পড়ে তাদের বহনকারী বাস। আবদুর রাজ্জাক ও বর-কনেসহ নিহত হন তাদের ১৪ স্বজন। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

এদিকে গতকাল মাদরীপুর ও মানিকগঞ্জে পৃথক দুর্ঘটনায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। দেশ রূপান্তরের সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের তথ্যে বিস্তারিত:

খুলনার নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকেল ৪টার দিকে রামপাল উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজের কাছে নৌবাহিনীর একটি বাস ও বিয়েবাড়ির মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি জাফর আহমেদ জানান, নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা হলেন বর সাব্বির (৩০), নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু (২৫), মিতুর নানি আনোয়ারা (৭০), বোন লামিয়া (১২), বরের বাবা আবদুর রাজ্জাক (৭০), মা আঞ্জুমান বেগম (৬০), বরের ভাবি পুতুল (৩৫), পুতুলের ছেলে আলিফ (১২), বরের বোন ঐশী (৩০), ঐশীর স্বামী সামিউল, ইরাম, মাইক্রোবাসের চালক নাঈম (৩০) ও অজ্ঞাত দুজন।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার সুকান্ত পাল ও মেডিকেল অফিসার ডা. রাজেস জানান, দুর্ঘটনায় নিহত চারটি লাশ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন পুরুষ, একজন নারী ও একজন কিশোরী। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে নয়জনের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মেহনাজ মোশাররফ।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, বিকেল ৪টার দিকে মোংলা থেকে ছেড়ে আসা বাসটি বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।

হাইওয়ে থানার ওসি জাফর আহমেদ বলেন, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে ছেড়ে এসেছিল। আর মাইক্রোবাসটি খুলনা কয়রা উপজেলা থেকে মোংলায় যাচ্ছিল। বেলাইব্রিজের কাছে মুখোমুখি চলে আসে দুই গাড়ি। বাসের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায় মাইক্রোবাসটি। মাইক্রোবাসের চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

খুলনা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া বলেন, দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বাকি চারজনের লাশ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

মানিকগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত: মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। গতকাল বেলা পৌনে ১টার দিকে বরংগাইল বাসস্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের বোলমারী উপজেলার সহস্রাইল গ্রামের বাসিন্দা পল্লীচিকিৎসক স্বামী মোনায়েম খান (৪৮) ও স্ত্রী জোসনা আক্তার (৪৫) নিহত হয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো অ-১১-৪০৫৫) পাটুরিয়া দিক থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বরংগাইল বাসস্ট্যান্ডে বেপরোয়া গতিতে পাটুরিয়ামুখী অন্য বাস অতিক্রমকালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেল চাপা পড়ে। এতে মোটরসাইকেল আরোহী মোনায়েম ও তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে বরংগাইল হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মোনায়েম খান মারা যান ও গুরুতর স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে স্ত্রী জোসনাও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

মাদারীপুরে শ্যালক-দুলাভাই নিহত : মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে শ্যালক-দুলাভাই নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলার শ্রীনদী এলাকার নবার মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের সোনাপাড়া গ্রামের পান্নু খাঁর ছেলে নাজমুল খাঁ (১৭) এবং নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা রফিকুল ভূঁইয়ার ছেলে সাইমুন ভূঁইয়া (৩৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইমুনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কালীরবাজার থেকে সোনাপাড়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন নাজমুল। পথে শ্রীনদী এলাকার নবার মোড়ে পৌঁছালে একটি চলন্ত ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে ঢুকে যায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত