থমকে গেছে যুক্তরাজ্যের চাকরির বাজার

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৯ এএম

যুক্তরাজ্যের চাকরির বাজারে গভীর স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ ব্যয়চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং নিয়োগকর্তাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে নতুন কর্মী নিয়োগে বড় ধরনের সংকোচন অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক দুটি প্রতিবেদন এবং সরকারি পরিসংখ্যানে এই ভঙ্গুর চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। 

হিসাবরক্ষণ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের (বিডিও) মাসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থান সূচক ফেব্রুয়ারিতে ৯৩.৩০-এ স্থির ছিল, যা জানুয়ারির সমান। এই সূচক ৯৫-এর নিচে থাকলে সংকোচন বোঝায় এবং এটি প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে শেষবার এমন নিম্নমুখী অবস্থা দেখা গিয়েছিল ২০১১ সালের মার্চে, বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর পুনরুদ্ধারের সময়।

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সূচকটি নিয়োগপ্রবণতা, কর্মী সংখ্যা এবং শ্রমচাহিদা পরিমাপ করে। বছরের শুরু থেকে পতনের গতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও স্বল্পমেয়াদে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের লক্ষণ খুবই কম।

বিডিওর আউটপুট সূচক ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ৯৮.৮০ হয়েছে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, মূলত সেবা খাতের কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে। তবে এটি কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়।

কেপিএমজি এবং রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট কনফেডারেশনের (আরইসি) এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থায়ী এবং অস্থায়ী উভয় ধরনের কর্মী নিয়োগের চাহিদা কমেছে। স্থায়ী কর্মী নিয়োগের পতনের হার প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন (সবচেয়ে ধীর), যা মার্চ ২০২৩-এর পর সবচেয়ে কম। অস্থায়ী বিলিংসও মাঝারি পতন দেখিয়েছে। চাকরির শূন্যপদ কমেছে, তবে মে ২০২৫-এর পর সবচেয়ে ধীরগতিতে। প্রার্থী সরবরাহ বেড়েছে, যা বেতন বৃদ্ধির হার কমিয়েছে।

কেপিএমজির যুক্তরাজ্যের প্রধান নির্বাহী জন হোল্ট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটসহ বৈশ্বিক ঘটনাবলির কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অপ্রত্যাশিত ধাক্কার মুখে পড়ছে। ফলে অনেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিয়োগে সতর্কতা অবলম্বন করছে।

রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট কনফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী নিল কারবেরি বলেন, নিয়োগের সবচেয়ে খারাপ সময় পার হয়েছে, তবে চ্যালেঞ্জ অব্যাহত।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বেকারত্বের হার বেড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে, যা প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ (সর্বশেষ ২০২১ সালের শুরুতে এমন ছিল)। তরুণদের (১৬-২৪ বছর) মধ্যে এটি ১৬ দশমিক ১ শতাংশ, প্রায় ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

যুক্তরাজ্যের অফিস ফর দ্য বাজেট রেসপনসিবিলিটি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৬ সালে বেকারত্ব ৫ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে (পূর্বে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ অনুমান করা হয়েছিল)। অন্যান্য পূর্বাভাসে ২০২৬-এর দ্বিতীয়ার্ধে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত ওঠার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত