রামপালে ১৪ জন নিহত: শোকে স্তব্ধ নাকশা গ্রাম

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম

দুই মেয়ে, নিজের মা আনোয়ারা বেগম ও শ্বাশুড়ি রাশিদা বেগমকে হারিয়ে মিতুর মা মুন্নি খাতুনের অবস্থাও খুব খারাপ। আদরের দুই মেয়ে আর শ্বাশুড়ির লাশ বাড়িতে আনার সঙ্গেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। কখনও দুই মেয়ের নাম ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন। প্রতিবেশী আর আত্মীয়স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দিতে পারছেন না। তারা কী সান্ত্বনা দেবেন একসঙ্গে দুই মেয়ে, মা আর শ্বাশুড়িকে হারানো মুন্নি খাতুনকে?

আজ শুক্রবার সকালে কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে আব্দুস সালামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকার্ত পরিবেশ। উপস্থিত কারো মুখে ভাষা নেই, সবাই যেন বাকরুদ্ধ।

নিহত নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু ও  তার ছোট বোন লামিয়ার পিতা আব্দুস সালাম মোড়লের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে পরিবেশ হয়ে ওঠে হৃদয়বিদারক। উপস্থিত কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। দুই মেয়ে আর মাকে হারানো আব্দুস সালামকে কেউ সান্ত্বনাও দিতে পারছিলেন না।

স্থানীয় আমাদী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল বলেন, ইতিপুর্বে এমন ঘটনা তার ইউনিয়নে আর কখনও ঘটেনি। এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো ইউনিয়নের মানুষ শোকে স্তব্ধ।

এদিকে শুক্রবার সকাল ১০টায় কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশের মাঠে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু, ছোট বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের মরদেহ দাফন করা হয়। এ ছাড়া মিতু ও লামিয়ার নানি আনোয়ারা বেগমের মরদেহ পার্শ্ববর্তী দাকোপ উপজেলার পানখালি গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

এর আগে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টায় নববধু মিতুসহ তিন জনের লাশ তাদের বাড়িতে পৌঁছায়। লাশ বাড়িতে পৌছানোর পর থেকে পাগল প্রায় মিতুর বাবা, মা ও স্বজনরা। কান্না, আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত