কুষ্টিয়ায় কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে ইবি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন এজাহার নামীয় তিনজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালত। রবিবার (১৫মার্চ) কুষ্টিয়া অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা পারভেজ এই আদেশ দেন। এর ফলে ইবি’র দুই শিক্ষক সমাজ কল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান এবং কর্মকর্তা সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস গণ গ্রেপ্তার এড়াতে দেশত্যাগ করতে পারবেন না।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া আদালত পুলিশের পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলার ৩ আসামীর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইবি থানার পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন। আদালত শুনানী শেষে তিন আসামীর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আদেশ দিয়েছেন। আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা বিভাগসহ বর্হিগমন বিভাগের প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে’।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ইতোমধ্যে হত্যকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসহ সকল আলামত পুলিশ জব্দ করেছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক টেস্টের মাধ্যমে অপরাধীকে সনাক্ত করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। একই সাথে আসামীদের গ্রেপ্তারে আ্ইন প্রয়োগকারী সংস্থার সবগুলো ইউনিট কাজ করছে। শীঘ্রই আসামী গ্রেপ্তার হবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান,এই মামলার ১নাম্বার আসামী ইবি কর্মচারী সদর উপজেলার শান্তিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার হামিদুর রহমানের ছেলে খন্দকার ফজলুর রহমান পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন। ফজলুর রহমান সুস্থ্য হয়ে কথা বলতে পারলেই এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে হবে। এছাড়া মামলার এজাহার নামীয় অপর আসামীরা হলেন-ইবি প্রশাসন কর্তৃক বরখাস্ত হওয়া সমাজ কল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার এবং দুইজন সহকারী অধ্যাপক গণদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে ইবি শিক্ষিকা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন সংগঠন ও নিহতের স্বজনদের অংশ গ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মামলার বাদি, নিহতের স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান দাবি করেন ১০দিন অতিক্রান্ত হলেও নৃসংশ এ্ই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না পুলিশ। নাকি ইচ্ছা করে গ্রেপ্তার করছেনা কিছু বুঝতে পারছিনা। আসামীরা তো আকাশ দিয়ে উড়ে যায়নি। দেশের মধ্যেই অবস্থান করছে। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বুধবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ইবি’র থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় সমাজকল্যাণ বিভাগে নিজ কক্ষে থাকা অবস্থায় একই বিভাগের কর্মচারী ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যার পর নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী বাদি হয়ে থানায় ৪জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা মামলা (নং ০৬) দায়ের করেন।
