বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমান আলী আগাকে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের রানআউট করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই মিরাজের উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ ক্রিকেটের স্পিরিট বা স্পোর্টসম্যানশিপের বিষয়টি সামনে এনে সমালোচনাও করেছেন।
ক্রিকেট আইন প্রণেতা এমসিসি এর ব্যাখা দিয়েছে। বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, 'উভয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। নন-স্ট্রাইকার স্পষ্টভাবে মাঠের বাইরে ছিলেন এবং বল এখনও খেলার অংশ ছিল। আইন অনুযায়ী এটি আউট। নন-স্ট্রাইকার যখন বল খেলার অবস্থায় বাইরে ছিলেন এবং নিজেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন, তখন সংঘর্ষ ঘটেছে। কোনো ব্যাটসম্যানের উচিত নয় ফিল্ডিং দলের অনুমতি ছাড়া বল তুলতে চেষ্টা করা, কারণ এতে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড' আউট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এমসিসি আরও বলেছে, 'বল ডেড হওয়ার কোনো পরিস্থিতি ছিল না। নতুন ডেড-বল নিয়ম অক্টোবর থেকে কার্যকর হলেও, এখানে প্রযোজ্য নয়। সংঘর্ষের কারণে বল ডেড হয় না, কারণ তা খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষকে প্ররোচিত করতে পারে। এ ছাড়া, বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে বল পুরোপুরি স্থির ছিল না, এটি মাটিতে ছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বল যদি মাটিতে স্থির থাকে, তখন আম্পায়ার এটি ফাইনালি সেটেলড ঘোষণা করতে পারবেন। কিন্তু এখানে নন- স্ট্রাইকার আউট অবস্থায় ছিল এবং নিকটতম ফিল্ডার বল ধরার চেষ্টা করছিল।'
ক্রিকেটীয় চেতনার বিষয়ে এমসিসি জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ ফিল্ডিং দলের বিবেচনার বিষয় ছিল। "অনেকেই আগার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং ধারণা করছেন যে এই আউটটি ক্রিকেটের চেতনার পরিপন্থী ছিল। বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে মেহেদী মিরাজের পক্ষে অবশ্যই আপিল প্রত্যাহার করা সম্ভব ছিল। আগা স্পষ্টভাবে মনে করেছিলেন বলটি ‘ডেড’ হয়ে গেছে এবং অনিচ্ছাকৃত একটি সংঘর্ষের পর তিনি ফিল্ডিং দলকেই সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন—যে সংঘর্ষের কারণে তার পক্ষে সময়মতো ক্রিজে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাটার আইনত আউট হওয়ার পরও যদি ফিল্ডিং দল মনে করে যে ক্রিকেটের চেতনা রক্ষার্থে তাকে খেলা চালিয়ে যেতে দেওয়া উচিত, তবে তারা আপিল প্রত্যাহার করে নিতে পারে।"
কেনো বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে গেলো না তদন্ত হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী 