১৫ হাজারে চিকিৎসক একজন

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০১:২৬ এএম

পটুয়াখালী জেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসক সংকট চলছে। প্রায় ১৮ লাখ মানুষের এই জেলায় চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৩৩৩টি হলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১২১ জন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ২১২টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের হাসপাতাল ও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩২০৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পটুয়াখালী জেলায় জনসংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৭৭৫ জন। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার জন্য জেলা সদরে একটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, পাঁচটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, একটি ৩১ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র, দুটি ২০ শয্যার হাসপাতাল, একটি বক্ষব্যাধি ক্লিনিক এবং ৬২টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের তীব্র সংকটের কারণে জেলার প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য একজন চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালিত হচ্ছে।

দশমিনা উপজেলায় একটি ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাঁচটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এখানে চিকিৎসকের ৩৯টি পদ থাকলেও কর্মরত মাত্র ১১ জন। ফলে ২৮টি পদ শূন্য রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জরুরি প্রসূতি সেবায় এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২০১৮ সালে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ১১ জন চিকিৎসক দিয়ে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

কলাপাড়ায় একটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৮টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এখানে ৪২টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন। এছাড়া কুয়াকাটা ২০ শয্যার হাসপাতালে ৬ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন।

বাউফলে একটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১৫টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এখানে ৪৯টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত মাত্র ১৫ জন। ফলে ৩৪টি পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলার ১৫টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র চিকিৎসক ছাড়াই চলছে।

গলাচিপায় একটি ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১৭টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এখানে ৩৯টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১৪ জন চিকিৎসক।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহউদ্দিন জানান, ১৭টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৩টিতে চিকিৎসক রয়েছেন। তীব্র সংকটের মধ্যেই সেবা চালাতে হচ্ছে।

দুমকিতে একটি ৩১ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ৪টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এখানে ২৫টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত ১২ জন। ফলে ১৩টি পদ শূন্য রয়েছে।

মির্জাগঞ্জে একটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এখানে ৩৫টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত ১৪ জন। এছাড়া কাঁঠালতলীতে ২০ শয্যার হাসপাতালে ৬টি পদের মধ্যে ৫টিই শূন্য।

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ১২টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এখানে ১৫টি চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত ৯ জন। জেলায় একটি বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে দুজন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। তবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চারটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন দুজন।

পটুয়াখালীর ২৫০ শয্যার হাসপাতালে জনবল কাঠামো অনুযায়ী ৫৯ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। ফলে ৪০টি পদ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসিন লিজা বলেন, শুধু পটুয়াখালী নয়, সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থাকায় পাশের বরগুনা জেলার আমতলী ও তালতলী এলাকার রোগীরাও এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে জরুরি বিভাগে ৭ হাজার ৫৯০ জন, বহির্বিভাগে ১৬ হাজার ২৯১ জন এবং আন্তঃবিভাগে ৭ হাজার ২৯৭ জন চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ৭ মার্চ আন্তঃবিভাগে ভর্তি ছিলেন ৬১৮ জন রোগী।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, পুরো জেলাতেই চিকিৎসক সংকট রয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৪ জন চিকিৎসক জেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও অর্ধেকের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। দ্রুত এসব পদ পূরণে আবারও সংশ্লিষ্ট  দপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত