ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭মার্চ) বেলা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ চলে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার (১৭মার্চ) দুপুরে গোয়ালনগর ইউনিয়ন বিএনপি সমর্থক রহিম তালুকদার গ্রুপ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থিত কাশেম মিয়া গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বপালনকারী এক কর্মকর্তাকে জাল ভোটে প্ররোচনার অভিযোগে মো. জিয়া মিয়াকে সেনাবাহিনী আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গত তিনদিন আগে জিয়া মিয়া এলাকায় ফেরেন। তার সন্দেহ ছিল, বিএনপির স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুনের পক্ষের শিশু মিয়া সেনাবাহিনীর কাছে তথ্য দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করেছিলেন। এই সন্দেহ থেকেই সোমবার বিকেলে একা পেয়ে শিশু মিয়াকে মারধোর এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে জিয়া মিয়ার লোকজন। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। এনিয়ে সকাল থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
এরই জেরে বেলা২টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাশেম মিয়ার পক্ষ গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে। একইভাবে লালুয়ারটুক জামে মসজিদ থেকেও সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা ও চাতলপাড় তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক জানান, জালভোট নিয়ে সন্দেহ ও ভুল বোঝাবুঝি থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। সংঘর্ষ বড় আকারের হয়েছে। এতে অনেকে আহত হয়েছে। তবে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে এ ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এবিষয়ে একাধিকবার কল দিলেও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় রহিম তালুকদার ও কাশেম মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনা সম্পর্কে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অবস্থান করেছি। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত কোন পক্ষ মামলা করেননি বলেও ওসি জানান।
