স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি তাড়াহুড়ো করবে না

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৪ এএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরই দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হলেও এক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করবে না সরকারি দল বিএনপি। সরকারি দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, রাজনীতির মাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তবেই স্থানীয় সরকার, বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিকে যাবে তারা। ১১টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন জেলা পরিষদে প্রশাসন নিয়োগের পর এই আভাস আরও স্পষ্ট হয়েছে। ক্ষমতায় গ্রহণের এক মাসের ভেতরেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দুই দফায় সারা দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। জেলা পরিষদেও প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি সরকার।

গত মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়র না থাকায় নাগরিক সেবা বিঘিœত হচ্ছিল। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ সময় তিনি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করেননি। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবারে বিএনপির প্রতিপক্ষ বেশি। জামায়াত, এনসিপি তো রয়েছেই, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠবে। বিএনপির  ভেতরও কিছুটা সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। আছে বিশৃঙ্খলাও। প্রশাসনেও আছে কিছু সমস্যা। নেতিবাচক এসব দিক আগে ঠিক করতে হবে। সর্বত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য কমপক্ষে ছয় মাস, সর্বোচ্চ এক বছর সময়ও নেওয়া হতে পারে।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপির মূল লক্ষ্য হলো সরকার ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। একেবারেই ঝুঁকি নিতে চায় না বিএনপি। অন্তত এক বছর রাজনৈতিক মাঠও নিরুত্তাপ রাখতে চায় সরকার। রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির সুযোগ কাউকে দিতে চাই না। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে মোটেই তাড়াহুড়ো করার সিদ্ধান্ত নেই বিএনপিতে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট সরকারের অত্যাচার নির্যাতন মোকাবিলা করে বিএনপি টিকে থাকলেও গোছানোর ব্যাপার আছে। সরকারেরও স্ট্যাবিলিটির জন্য একটু সময় নিতে হবে। তারপর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে যাবে বিএনপি। এক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করতে চায় না বিএনপি।    

 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে না করে উন্মুক্ত রাখতে চায় বিএনপি। তবে নির্দিষ্ট প্রার্থীর প্রতি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিগন্যাল থাকবে। এক্ষেত্রে ভোটের মাঠের চিত্র অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার আইন করেছে। সে সময় দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন করার বিরোধিতা করেছে বিএনপি। এটিও স্থানীয় নির্বাচন উন্মুক্ত রাখার কারণ। উন্মুক্ত রাখার মধ্য দিয়ে বিএনপির সুবিধা ও অসুবিধা কী হতে পারে, সেগুলো নিশ্চিত হতে মাঠ জরিপ করা হবে। সময় নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার এটিও আরেকটি কারণ।

তবে অনির্ভরযোগ্য একটি সূত্র দাবি করেছে, মেয়াদ শেষ হওয়া স্থানীয় সরকারের কিছু নির্বাচন করে ফেলারও সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে মাঠ জরিপের ওপর সে সিদ্ধান্ত  নেবে বিএনপি। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো দাবি করছে, বড় সিটি করপোরেশনগুলো প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে অন্তত এক বছর পার করে নেওয়া হবে। প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে দলের তৃণমূলে কোন্দল আপাতত ছড়াবে না। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে তড়িঘড়ি করলে তৃণমূলের কোন্দল ভয়াবহ হয়ে উঠবে। যা নতুন সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন করতে গেলে দলীয় বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরোধ বিএনপি তথা নতুন সরকারকে বেশ অসুবিধায় ফেলে দিতে পারে। তাই একটু সময় নিয়ে দল ও সরকার গুছিয়ে নিয়ে স্থানীয় নির্বাচন করা হবে। 

তবে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মিত্র জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চায় এখনই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এক্ষেত্রে তারা প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে। মাঠে কাজও করছেন তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত