প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন সরকারি বাসভবনেই

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য সরকারি বাসভবন যমুনায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর ২৯ মিন্টো রোডের বাড়িতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় শেষে যমুনায় কূটনৈতিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এখনো বসবাস শুরু না করলেও প্রধানমন্ত্রী যমুনায় বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান করেছেন ইতিমধ্যে।

অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে যাচ্ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের অপেক্ষা ঘুচবে মিন্টো রোডের বাড়িটির। ঈদের দিন তার নির্বাচনী এলাকা মিরপুরে ঈদের নামাজের পর বেলা ১১টায় মিন্টো রোডে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন ডা. শফিকুর রহমান। বিকেল সাড়ে ৪টায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। বাড়িটি এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় অতিথি আপ্যায়নের জন্য খাবার বাইরে থেকে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা।

এরই মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে বাড়ি দুটির সংস্কারকাজ চলছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন প্রকৌশলীরা। ঈদের পর প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে বাসভবনে উঠতে পারেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিন বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবনে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সবদিক বিবেচনায় যমুনাতেই বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানা গেছে, ৩০ হেয়ার রোডে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনার আয়তন প্রায় সোয়া তিন একর। যমুনার পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোয় সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকতেন। অধ্যাপক ইউনূস জাতীয় নির্বাচনের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি যমুনা ছাড়ার পর এই দুটি বাংলো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ সুবিধা বিবেচনা করে তার বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে যমুনা। হাইজেনিক ওয়াশ, রঙ করাসহ আনুষঙ্গিক সংস্কারকাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অপচয় কমাতে এর সংস্কারকাজে বাড়তি খরচ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি কর্মসূচি যমুনায় পালন করেছেন। কিন্তু বসবাসের জন্য কবে যমুনায় উঠবেন তা জানাননি। যমুনায় ওঠার সিদ্ধান্ত হলে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের মধ্যে সব প্রস্তুত হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাহুল্য খরচ পরিহার করতে চান সবসময়ই। তাই আমরা কোনো বাহুল্য খরচে যাচ্ছি না। ভেতরে রঙ করা হয়েছে। সঙ্গে করা হয়েছে হাইজেনিক ওয়াশ (জীবাণুমুক্তের জন্য পরিচ্ছন্ন করা)। যাতে আমরা খুব অল্প বাজেটের ভেতরে সাশ্রয়ীভাবে এই জিনিসটা করতে পারি।

এদিকে, মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্যান্ডেল তৈরি করতে এবং বসবাস উপযোগিতা যাচাই করতে বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন জামায়াত নেতারা। এ সময় তারা কিছু পরামর্শ দেন। গণপূর্ত অধিদপ্তর সেই আলোকে সংস্কার করছে। গত রবিবার বাড়িটি পরিদর্শনে যান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি ড. আবদুল মান্নান, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, জামায়াত নেতা আবদুস সাত্তার সুমন।

বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে কক্ষ, সিঁড়ি, দরজা-জানালাসহ আশপাশে ঘুরে দেখেন তারা। বাড়িটির সামনের জায়গায় ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য প্রস্তুত করার বিষয়ে কথা বলেন তারা। এ জন্য বাড়ির সামনে শামিয়ানা টাঙিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জায়গা প্রস্তুত করা হবে। এরই মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা গণপূর্তের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছেন।

জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ঈদের নামাজ আদায় করে ২৯ মিন্টো রোডের বাড়িতে আসবেন। সেখানে প্রথমে কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। পরে রাজনীতিবিদ, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

জামায়াতের দলীয় সূত্র বলছে, এরই মধ্যে মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঈদের দিন সেমাই-পায়েস, মিষ্টান্নসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য নাশতার ব্যবস্থা থাকবে। ভেতরে যেহেতু এখনো সব ব্যবস্থাপনা ঠিক হয়নি, তাই বাইরে থেকে নাশতা নিয়ে আসা হবে।

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছেন মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন। আলাপকালে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনের সামনে আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে কূটনীতিকসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো বাড়িটি বসবাসের উপযোগী হয়নি। আমরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, তারা সংস্কারের আশ্বাস দিলেও এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাড়িটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়নি। গণপূর্ত সংস্কারকাজ করছে, আমরা দেখে এসেছি। হয়তো আর একটু সময় লাগবে। তাদের কাজ শেষ হলে ঈদের পর বাড়িতে উঠতে পারেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।’

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমরা বাড়িটি সংস্কার করে বসবাস উপযোগী করার জন্য কাজ করছি। বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সে আলোকে আমরা বাড়িটি প্রস্তুত করছি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এক সময় বাড়িটি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারণ করা হয়। বাড়িতে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া উঠেছিলেন। ২০০১ সাল পর্যন্ত তার নামে বাড়িটি বরাদ্দ ছিল। এরপর আর কোনো বিরোধীদলীয় নেতা সেখানে ওঠেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে সরকারি দলের ও বিরোধী দলের প্রতি এক ধরনের আক্রোশের কারণে বাড়িটি অবহেলিত ছিল। যে কারণে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বাড়িতে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না।

গণপূর্তের কর্মকর্তারা বলছেন, মিন্টো রোডে সরকারি বাড়িগুলোর মধ্যে পাঁচটি বাড়ির স্থায়ী বরাদ্দ রয়েছে। এগুলোর বরাদ্দ কখনো পরিবর্তন হয়নি। ডিসির বাংলো এবং বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন এর মধ্যে অন্যতম। তারা যদি কোনো কারণে এই বাড়িতে না ওঠেন, গণপূর্ত চাইলেই অন্য কাউকে বরাদ্দ দিতে পারে না। সেজন্য দুই যুগের বেশি সময় বাড়িটিতে কেউ বসবাস করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত