দুনিয়ার সভ্য সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের ঘাড়ের ওপর কারও আধিপত্য মেনে নেব না। অতীতে নেওয়া হয়েছিল, এই বোঝা আমরা ফেলে দিয়েছি। আমাদের যুব সমাজ একদম এটা সহ্য করবে না। তারা বুক উঁচু করে বাঁচতে চায়, বিশ্বের বুকে একজন গর্বিত বাংলাদেশি হিসাবে পরিচয় দিতে চায়।
গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর-১০ এর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চীনের সহায়তায় দুস্থদের মধ্যে ফুডপ্যাক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজের নির্বাচনী এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে চীন সরকার এবং রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এই উপহার যদি আমাদের ভাই-বোনদের একটু খুশির ঝিলিক এনে দেয়, এটি হবে আমাদের বড় পাওনা।
তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদীর্ঘ ৫০ বছরের। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে চীন অন্যতম বৃহৎ পার্টনার, উন্নয়ন অংশীদার। চীনের অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় নিদর্শন গড়ে উঠেছে। তাদের বন্ধুত্বের নিদর্শন চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে আমাদের এই বন্ধুত্বের নিদর্শনটা হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল। হলটার নাম পাল্টিয়ে তাদের বাপের নাম এখানে লিখে দিয়েছিল। এটা হতে পারে না। একটা দেশ ভালোবাসার জায়গা থেকে আমাদের উপহার দিয়েছে। সারা বাংলাদেশকেই তারা এভাবে দখল করে নিয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেটি দখলমুক্ত হয়েছে।
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে চীন কোনো হস্তক্ষেপ করেনি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেকে বাংলাদেশকে কিছু না দিয়েই বাংলাদেশ থেকে সবকিছু নিয়ে যখন-তখন হস্তক্ষেপ করে ছিল। কিন্তু চীন করে নাই। আশা করব অতীতের চাইতেও আগামী দিনগুলোতে চীন আরও বেশি উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে তারা কাজ করবে।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তিস্তা প্রকল্পের বিষয়টি চীন রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন। এটি বাংলাদেশের কান্না, উত্তরাঞ্চলের কান্না। আমরা এ কান্নার অবসান চাই। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি আছে। আমরা এই প্রকল্পকে শুধু সাপোর্ট করব না। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি আমাদের কিছু করার থাকে সেটাও করব।
অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, আপনাদের বড় উৎসব আসছে। ঈদুল ফিতর হলো ভালোবাসার উৎসব। কৃতজ্ঞতার প্রকাশ এবং সবার মধ্যে আনন্দ, ঈদের প্রস্তুতিতে সহায়তা করতে এবং পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটাতে আমরা কিছু উপহার নিয়ে এসেছি।
