ফুটপাতে হকারদের হাঁকডাক

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:১১ এএম

‘একদাম ২০০ বাইচ্ছা লন ২০০, বড় বড় শো রুমের মাল ২০০’। এভাবেই হ্যান্ডমাইকে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিলেন গুলিস্তানের পাঞ্জাবি বিক্রেতা। রাজধানীর বড় শপিং মলগুলোতে কয়েক হাজার টাকায়ও পাঞ্জাবি মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু গুলিস্তানের শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউতে মাত্র ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বাহারি রঙের পাঞ্জাবি।

শুধু পাঞ্জাবি-ই নয় নারী-পুরুষের কাপড়, জুতা থেকে শুরু করে সব ধরনের ঈদ সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে গুলিস্তানসহ আশপাশের এলাকার ফুটপাতে। জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট, আবার সুন্দরবন স্কোয়ার মার্কেট, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টার, বঙ্গবাজার, সিদ্দিক বাজারসহ আশপাশের সড়কগুলোর দুই পাশে পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। নগর ভবনের বিপরীত পাশের ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে পাঞ্জাবি, পাজামা, শাড়ি, লুঙ্গি, টি-শার্ট, পলো-শার্টসহ বাহারি সাজের নানা পণ্য।

এই এলাকার ফুটপাতগুলোতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় যে কোনো বয়সী মানুষের কাপড় ও জুতা পাওয়া যাচ্ছে। বাহারি টি-শার্টগুলো ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন। ১৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যের জুতা পাওয়া যাচ্ছে। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে টুপি। সুতির শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায়। তাছাড়া মেহেদি, চুড়ি, লিপস্টিকসহ নানা প্রসাধনীর দোকানও দেখা গেছে।

আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউতে কথা হয় একদরের পাঞ্জাবি বিক্রেতা জাকির হোসেনের সঙ্গে। আলাপকালে তিনি জানান, আমাদের খরচ কম, বিক্রি অনেক। তাই পাইকারি দামে বিক্রি করে দিচ্ছি। মানুষও খুব আগ্রহের সঙ্গে পাঞ্জাবি কিনে নিচ্ছেন।

সন্ধ্যার পর নগর ভবনের উল্টো পাশের ফুটপাতে স্বামীকে পাঞ্জাবি কিনে দিয়েছেন এক গার্মেন্টসকর্মী। ফুটপাতের ওপর দাঁড়িরে স্বামীর পাঞ্জাবি মেপে দিচ্ছেন নিজ হাতে। আলাপকালে এই দম্পতি জানান, সামান্য বেতনের আর বোনাসের টাকা দিয়ে নিজেদের এবং পরিবারের জন্য শপিং করতে হবে। মার্কেটগুলোতে কাপড়ের যে চড়া দাম, তাতে সবাইকে খুশি করা যাবে না। এ জন্য এখানে এসেছেন। তাদের ভাষ্য, দাম কম হলেও কাপড়ের কোয়ালিটি একেবারে খারাপ না।

হল মার্কেটের সামনে জুতা বিক্রেতা সাগর জানান, ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জুতা আছে তার কাছে। কিন্তু রাস্তায় মানুষ বেশি দামি জুতা কিনতে চান না। তাই কম দামের জুতাগুলো সামনে রাখি।

শাড়ি বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, এখানে সব শ্রেণির মানুষই আসেন। শুধু কম আয়ের মানুষ আসেন, এটি ঠিক নয়। রাতের বেলায় অনেক স্যারেরাও এসে মালামাল নিয়ে যান। বাজেটের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করার জন্য আমাদের মার্কেটের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, আমরা ২০০ টাকায়ও শাড়ি বিক্রি করি। মোটামুটি মানের শাড়ি থ্রি পিস ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করি। চাইলে আরও দামি কাপড়ও দিতে পারি।

তাছাড়া নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত, আরামবাগ, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মৌচাক, মতিঝিল ও মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতে ঈদের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। একদিকে কম টাকায় ঈদের শপিং করতে পেরে ক্রেতারা যেমন খুশি, অন্যদিকে বেশি বেচাকেনা হওয়ায় বিক্রেতারাও খুশি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত