গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুব জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত বুধবার রাতের ওই ঘটনায় যুব জামায়াতের ৮ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম গতকাল বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় তৌহিদুল ইসলাম কাকন নামের এক সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
থানা পুলিশ বলছে, গত রাতে ১০ থেকে ১৫ জন যুব জামায়াতের নেতাকর্মী অনৈতিক দাবি নিয়ে ওসির কাছে আসেন। তারা আধা ঘণ্টার মধ্যে পৌরসভার মালিকানাধীন একটি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তা না হলে ওসির চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দেন। কিন্তু দোকানটি যেহেতু সরকারি মালিকানাধীন, তাই সেখানে তালা দেওয়ার এখতিয়ার পুলিশের নেই বলে জানান ওসি।বিষয়টি তাদের বোঝানোরও চেষ্টা করেন ওসি। কিন্তু তারা বিষয়টি নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ওসিসহ থানায় থাকা পুলিশ সদস্যদের কিলঘুষি মারতে থাকেন এবং ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে ওসিসহ দুজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং তিনজন কনস্টেবল স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ইটের আঘাতে রাসেল নামের এক এএসআই-এর হাতের হাড় ভেঙে গেছে।
গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এ বি এম রশিদুল বারী স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘বুধবার রাতে পলাশবাড়ী যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের নেতৃত্বে একটি দল থানায় ঢোকে। তারা কালীবাজার এলাকার একটি দোকানে তালা লাগানোর জন্য ওসিকে চাপ দেয়। ওসি রাজি না হওয়ায় পলাশ ও তার অনুসারীরা চড়াও হন।’
অভিযোগের বিষয়ে পলাশবাড়ী যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু থানায় যান।
অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের কোনো কর্মী জড়িত আছে কি না থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনার সময় সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও দেখতে চাইলে পুলিশ জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি পেলেই ভিডিও দেখানো যাবে।
