স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ বাহিনীর যে ত্যাগ, যে রক্তদান, সেটাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধের ঘোষণার সূচনা বলে আমরা জানি। এটাই প্রকৃত ইতিহাস, আজকের এই দিনে সব শহীদদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে, রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এ সময় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাতে সবচাইতে বেশি শহীদ হয়েছেন এই রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে। এখানেই প্রথম ‘ম্যাসাকার’ বা গণহত্যা শুরু হয়েছিল। এখান থেকে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হল এবং অন্য জায়গায় পাকহানাদার বাহিনী গণহত্যা চালায়। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার প্রথম ভিত্তি। তিনি বলেন, পাকহানাদার বাহিনী যদি ২৫ মার্চ কালোরাতে এখানে ওই সময় হামলা না করত তাহলে হয়তো স্বাধীনতার ঘোষণা আরও দু-এক দিন পরে হতে পারত। কিন্তু এ ঘটনা আমাদের জাতিকে বাধ্য করেছে।
স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই গণহত্যার খবর পাওয়ার পর তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন তখনো পর্যন্ত পাকিস্তানি কমান্ডারের হুকুমে। তিনি অবগত হলেন রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে গণহত্যা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আক্রমণ করা শুরু করেছে। সুতরাং এই মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হবে। তখনই তিনি মনস্থির করেছেন এবং ষোল শহরে তার নিজস্ব সামরিক বেইজে গিয়ে তার কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করলেন। পরে তাকে হত্যা করা হয়। বাঙালি অফিসারদের মধ্যে যারা তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ছিলেন তাদের নিয়ে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। সেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। ২৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি প্রথম প্রভিশনাল হেড অব দ্য স্টেট হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে সারা বিশ্বের সমর্থন কামনা করেন এবং তারপরে তৎকালীন জাতীয় নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবার সংশোধিতভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এটাই প্রকৃত ইতিহাস।
ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া ওসমান হাদি হত্যাকা-ে অভিযুক্ত তিন আসামিকে বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা হচ্ছে, আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ আমাদের অনুরোধপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা প্রেরণ করেছি। যাতে এক্সট্রাডিশন চুক্তি (বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি) অনুসারে সেই সব আসামিকে আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
