গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ আট পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মিজানুর রহমান মিজান (৩৪) নামের এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ওসি সারোয়ার আলম খান। গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান মিজান পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের সাবেক আমির ও পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের নেতাকর্মী একটি অভিযোগপত্র নিয়ে পলাশবাড়ী থানায় যান এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওসিকে চাপ প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে তারা ওসিসহ পুলিশকে মারধর করে। এ ঘটনায় বুধবার রাতেই পলাশবাড়ী থানার সহকারী উপপরিদর্শক রুহুল আমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় পলাশ আহমেদসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জামায়াতের বায়তুল মালবিষয়ক সম্পাদক পলাশ আহমেদের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২১ জন পলাশবাড়ী থানার ওসির কক্ষে ঢুকে পড়েন। তারা পলাশবাড়ী বাজারের একটি মুরগির দোকান পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে থানার ওসি সরোয়ারে আলম খানের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা ওসিকে দোকানটি তালাবদ্ধ করতে বলেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছেন বলে পলাশ আহমেদসহ অন্যদের জানিয়ে দেন ওসি। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পলাশ আহমেদের নেতৃত্বে ওসির শার্টের কলার ধরে টেনেহেঁচড়ে এলোপাতাড়িভাবে লাথি ও কিল ঘুষি মারে।
হামলাকারীরা থানার কক্ষে ঢুকে সরকারি বিভিন্ন রেজিস্টারপত্র ছিড়ে ফেলে এবং কয়েকজন কনস্টেবলকে মারধর করেন। পরে আহতদের পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওসি সরোয়ারে আলম বলেন, এ ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট দুজনকে আটক করা হয়েছে।
