নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় চাঁদা না পেয়ে দোকানে ঢুকে এক ব্যবসায়ী ও তার ছেলের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যবসায়ী হাজী মো. হেলাল উদ্দিন, তার ছেলে ও এক কর্মচারীসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) এ বিষয়ে ভুক্তভোগী হাজী মো. হেলাল উদ্দিন হাতিয়া থানায় মামলার এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই স্থানীয় হাতিয়া পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের চর কৈলাস গ্রামের বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত এক ব্যবসায়ীর দোকানে ঢুকে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। উপজেলা সদরের ওছখালী পুরাতন বাজারের এ মুদি ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ ও রডের আঘাতে গুরুতর জখম হন। বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছেলে শাহেদ উদ্দিন এবং দোকানের কর্মচারী টুটুল দাসও গুরুতর আহত হন।
হামলার সময় দুর্বৃত্তরা দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল একটি টমটমে করে নিয়ে যায় এবং কয়েকজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এতে প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
পরে আহতদেরকে উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন জানান, আমি দীর্ঘ অনেক বছর ধরে এই বাজারে ব্যবসা করি। তারা অনেক আগে থেকে বিভিন্ন সময়ে আমার থেকে চাঁদা দাবি করে আসছে। সেদিন আবারও দোকানে এসেছে চাঁদার জন্য। আমি চাঁদা দিতে অপারগ হওয়ায় দোকানে হামলা করে। তারা যাওয়ার সময় মামলা করলে দোকান জ্বালিয়ে দেওয়ার ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।
অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা এ ধরনের কোনো হামলা করিনি। বরং সে আমার ছেলেদের মারধর করতে গিয়ে নিজেই ড্রেনে পড়ে গেছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে এবং আসামিদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
