অবিশ্বাস্য অঙ্কে বিস্ময়ের হাসি

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বোতাম টিপতেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত ক্রীড়াবিদদের মোবাইলে পৌঁছে গেল প্রথম মাসের ভাতা। যা দেখে একেকজনের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! প্রধানমন্ত্রী যখন জানতে চাইলেন, সবার মোবাইলে অ্যাপের মাধ্যমে ভাতা পৌঁছেছে কি না? সমস্বরে সায় দিয়েই মুহুর্মুহু করতালিতে ক্রীড়াবিদরা মাতিয়ে রাখলেন পুরো সম্মেলন কক্ষে। তাদের প্রত্যেকের মুখে স্ফীত হাসি। হবেই বা না কেন? সরকারপ্রধান প্রতি মাসে তাদের জন্য ভাতা হিসেবে বরাদ্দ করেছেন ১ লাখ টাকা! বছরের পর বছর শত বঞ্চনা-গঞ্জনা সয়ে, কঠোর শ্রম-সাধনায় খেলাধুলাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়ে যারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে ছিলেন, তারাই কি না কেবল পারফরম্যান্সের জোরে এখন থেকে পাবেন মাসে ১ লাখ টাকা ভাতা! সাফ ফুটসাল জয়ী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন তো বলেই দিলেন, ‘খেলোয়াড়রা এখন চোখ বন্ধ করে খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবেন।’ সরকারের এই উদ্যোগে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে যে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে তা পরিষ্কার হয়েছে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে পদকজয়ী পাহাড়ি কন্যা খই খই মারমার কথায়, ‘এখন নিজেদের মধ্যেই প্রতিযোগিতা হবে। আমরা যারা তালিকায় আছি তারা পারফরম্যান্স ধরে রাখতে চাইব, আর যারা বাইরে আছে তারা ভালো করে তালিকায় ঢোকার চেষ্টা করবে।’

ক্রীড়াবিদদের অর্থ সংকট একটা নৈমিত্তিক ব্যাপারে রূপ নিয়েছিল এ দেশে। আর্থিক নিরাপত্তা না থাকায় ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে অনেককেই খেলা ছাড়তে দেখা গেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের খেলাধুলা যতটা এগুনোর কথা ছিল, ততটা এগোয়নি। আন্তর্জাতিক সাফল্য এনে দেওয়ার পর ক্রীড়াবিদদের প্রতিক্রিয়ায় একটা কথা ছিল কমন, ‘আর্থিক নিরাপত্তা না থাকায় নিজের খেলায় পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণেই খেলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’ বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই আক্ষেপ-অপ্রাপ্তি ঘুচানোর কথা বলেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দায়িত্ব নিয়েই জানিয়েছিলেন খেলাকে পেশায় বদলে ফেলতে উদ্যোগ নেবেন। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের কথা রেখেছেন সাবেক এই ফুটবল তারকা। রাখতে পেরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিকতার কারণেই। তাই এমন সারপ্রাইজ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ক্রীড়াবিদরা শুরুতেই কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি।

এর আগে দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সম্প্রতি সাফ ফুটসালের শিরোপা জিততে অধিনায়ক হিসেবে রেখেছেন বড় ভূমিকা। গতকাল সোমবার মাসিক ভাতা প্রধান, ক্রীড়া কার্ড ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সাবিনাকে দেওয়া হয়েছিল প্রতিক্রিয়া প্রদানের সুযোগ। সাধারণত সরকার প্রধানের অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে দেওয়া হয় অতিথিদের। সাবিনাও লিখিত বক্তব্য দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন মাইকের সামনে। বক্তব্য শুরুর আগেই পেছন থেকে প্রধানমন্ত্রী তাকে অনুরোধ করেন লিখিত বক্তব্য না পাঠ করে নিজের অনুভূতি জ্ঞাপন করতে। সাবিনাও অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন তারেক রহমানের কথা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সাবিনা বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করুন, পাশে থাকুন। আমরা যতটা সাফল্য এনেছি, তারচেয়ে বড় সাফল্য এনে দেব।’ দেশে কোনো ফুটসাল মাঠ নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা পূর্ণাঙ্গ ফুটসাল মাঠের দাবি জানান সাবিনা। বক্তব্যে বলেন, ‘ফুটসাল প্রথমবার খেলতে গিয়েছিলাম, আমরা ভালো ফলাফল করেছি। বাংলাদেশে ভালো ফুটসাল গ্রাউন্ড নাই, আমাদের জন্য একটা মাঠের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ তাৎক্ষণিক পাশে থাকা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে আপডেট নিয়েই প্রধানমন্ত্রী সাবিনাকে দাঁড় করিয়ে বলেন, ‘সাবিনা, তোমার যে মাঠের দাবিটা, এটা আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মোটামুটিভাবে শেষ হয়ে আসছে কাজটা। মেয়েরা যেন প্র্যাকটিস করতে পারে, খেলতে পারে সেই মাঠ মোটামুটি সিলেকশন হয়েছে। অলমোস্ট ডান।’

বিশেষ পুরস্কার, মাসিক ভাতার পাশাপাশি মাঠের প্রত্যাশা পূরণে ভীষণ উচ্ছ্বসিত সাবিনা অনুষ্ঠান শেষে বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগ আমাদের অনেক ক্রীড়াবিদের জন্য অনেক সারপ্রাইজিং ছিল। আমি মনে করি খেলোয়াড়রা তাদের খেলাকে এখন চোখ বন্ধ করে তাদের পেশা হিসেবে নিতে পারবে। সব ক্রীড়াবিদের পক্ষ থেকে আমি আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। ক্রীড়া কার্ড যেটা সরকার থেকে আমাদের দিয়েছে, এর কারণে খেলোয়াড়দের খেলার চাহিদাটা অনেক বেড়ে যাবে এবং কম্পিটিশন লেভেলটা আরও বাড়বে। কারণ তারা যখন দেখবে যে এই জায়গাটা থেকে তারা আর্থিকভাবে একটা ভালো সাপোর্ট পাচ্ছে, তখন খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে, খেলোয়াড় সংখ্যা বাড়বে এবং লড়াকু মনোভাবের কারণে পারফরম্যান্সেরও আরও উন্নতি হবে।’

ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে টেবিল টেনিসের মিশ্র দ্বৈত ইভেন্টে রুপা খইখই বলেছেন, এর ফলে অধরা অলিম্পিক পদকের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব হবে বাংলাদেশের। স্পেশাল অলিম্পিকে পদকজয়ী শারীরিক প্রতিবন্ধী সাঁতারু মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের মতো প্যারা অ্যাথলেটদের দুঃখ কষ্ট বুঝতে পেরেছেন। আমাদের জীবনযাপনটা হচ্ছে একটু অন্যরকম। কারণ আমাদের চলাফেরা বা যে কোনো দিক দিয়েই বলেন আমাদের খরচ বেশি, সবকিছুই বেশি। তারপরও আমাদের খেলার প্রতি ভালোবাসা আছে। এমন স্বীকৃতি পাওয়ার পর ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও অনেক কিছু দিতে চাই। আমাদের মতো পিছিয়ে পড়া মানুষরা আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবে। তারা ভাববে আর আমাদেরও পিছিয়ে পড়া যাবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত