৫৩ বছর পর আবারও চাঁদে যাচ্ছে মানুষ

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম

৫৩ বছরের বেশি সময় পর চাঁদের উদ্দেশে নভোচারী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের চার নভোচারী কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে এই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করবেন। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এই প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে রওনা হচ্ছে।

এই মিশনের চার নভোচারী হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। তারা এরই মধ্যে ওরিয়ন ক্যাপসুলে প্রবেশ করেছেন। ১০ দিনের এই মিশনে তারা চাঁদের চারপাশ ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

নভোচারীরা ওরিয়ন ক্যাপসুলে প্রবেশের পর বর্তমানে সেটি উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত করছেন। তারা এই ক্যাপসুলের নাম দিয়েছেন ‘ইন্টেগ্রিটি’। নভোচারীদের মতে, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, স্পষ্টবাদিতা ও বিনয়—এই মূল্যবোধগুলো প্রতিফলিত করতেই তাঁরা এই নাম বেছে নিয়েছেন। ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রায় ১৫ ফুট চওড়া ও ৯ ফুট উঁচু। কক্ষপথে পৌঁছানোর পর নভোচারীরা ভেতরে জায়গা বাড়াতে বসার আসনগুলো গুটিয়ে ফেলবেন।

মানুষবাহী এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের মূল লক্ষ্য চাঁদে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করা। নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে আবার নভোচারী অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান মহাকাশ প্রতিযোগিতার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের এই মিশনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

আর্টেমিস-২ মিশনের বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, ‘চাঁদ হচ্ছে সৌরজগৎ সৃষ্টির এক সাক্ষী এবং মঙ্গলে যাওয়ার একটি সোপান। এখন প্রশ্ন এটা নয় যে আমরা সেখানে যাব কি না; প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেখানে নেতৃত্ব দেব নাকি অন্য কাউকে অনুসরণ করব?’

ভবিষ্যতে চাঁদের খনিজ সম্পদ আহরণ এবং মঙ্গলের মতো আরও কঠিন অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে এই মিশনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত