পটুয়াখালীর বাউফলে এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ায় এক শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করতে অনাগ্রহী হওয়ায় শিক্ষকদের হুমকি, অসদাচরণ ও মব সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে এক যুব অধিকার পরিষদের নেতার বিরুদ্ধে। ওই নেতার নাম হাসান মাহমুদ। তিনি বাউফল উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের নতুন ভবনের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন কলেজ অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এনায়াতে হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে কলেজ অধ্যক্ষ এনায়েত হোসেন বলেন, ‘গত মঙ্গলবার দুপুরে মো. সাব্বির নামে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের একজন শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সুপারিশ নিয়ে কলেজে আসেন যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়দানকারী হাসান মাহমুদ। ওই শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি এবং সে ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর ২০২৫ সালের পরীক্ষায়ও অংশ নেননি। এ কারণে আমরা তার ফরম পূরণ করতে রাজি হয়নি। এতে করে ওই নেতা ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে অসদাচরণ ও মব সৃষ্টি করেন। কমিটির কক্ষে বসে কোনোরকম অনুমতি না নিয়ে ফেসবুক লাইভ করেন এবং ওই লাইভে ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার মিথ্যা ও বিভ্রান্তকর তথ্য প্রচার করেন।’
কলেজ অধ্যক্ষ আরও বলেন, ফেসবুক লাইভে ফরম পূরণের জন্য ৫ হাজার টাকা করে নেওয়ার যে দাবি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সরকার নির্ধারিত ফরম পূরণের ফি মানবিক বিভাগে ২ হাজার ৫৫০ টাকা এবং বিজ্ঞান শাখায় ২ হাজার ৯৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও বেতন, টিউশন ফি নিয়ে আরও বেশি টাকা হয়। মানবিক বিবেচনায় ৫ হাজার টাকার কমেও ফরম পূরণ করা হয়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ।
এ ব্যাপারে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সালেহ আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
