বিশ্বকাপ ‘অভিশাপে’ নীল ইতালি

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

ফুটবল বিশ্ব আবারও এক অবিশ্বাস্য ও ট্র্যাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ইউরোপিয়ান প্লে-অফ ফাইনালের নাটকীয় লড়াইয়ে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে হেরে স্তব্ধ হয়ে গেছে আজ্জুরিরা। ইতালির এই বিদায়ে ফুটবল দুনিয়ায় যেমন শোকের ছায়া, তেমনি ২৪ বছর পর তুরস্ক এবং ২০ বছর পর চেক প্রজাতন্ত্রের বিশ্বকাপে ফেরার আনন্দে ভাসছেন তাদের সমর্থকরা।

বসনিয়ার জেনিকায় বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল ইতালির জন্য রীতিমতো আতঙ্ক জাগানিয়া। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই নিকোলো বারেল্লার পাস থেকে ময়েজ কিনের চমৎকার গোলে লিড নেয় ইতালি। তবে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে ৪১ মিনিটে, যখন নিশ্চিত গোল বাঁচাতে গিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইতালিয়ান ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি।

১০ জনের ইতালিকে চেপে ধরে বসনিয়া অবশেষে ৭৯ মিনিটে হারিস তাবাকোভিচের গোলে সমতায় ফেরে। অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ইতালির সেবাস্তিয়ানো এসপোসিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে গোল করতে ব্যর্থ হলে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে ইতিহাস গড়ে বসনিয়া। ২০১৪ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল বলকান অঞ্চলের দেশটি।

২০১৪ আসরের পর আর বিশ্বকাপের মুখ দেখেনি ইতালি। এই টানা ব্যর্থতাকে ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো ‘বিশ্বকাপ অভিশাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও বইছে ঝড়; ফুটবল ফেডারেশন সভাপতির পদত্যাগের দাবি উঠেছে। একসময়ের ফুটবল পরাশক্তিদের এমন পতন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

২০১৭ সালে সুইডেনের বিপক্ষে প্লে-অফে হেরে পরের বছর বিশ্বকাপ খেলা হয়নি ইতালির। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে হারে। এবার ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৭১তম বসনিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপে ফেরা হলো না ‘আজ্জুরি’দের। অপেক্ষা করতে হবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। তবে বিশ্বকাপে এবারও ইতালির নীল উৎসব না থাকলেও নীল রঙটা কিন্তু থাকছে। ঘরের মাঠে নীল জার্সি পরে নামা বসনিয়া বিশ্বকাপে ফিরল ১২ বছর পর। ইতালির মতোই ২০১৪ আসরে সর্বশেষ খেলে তারা। সেটা তাদের অভিষেক বিশ্বকাপ। অর্থাৎ বসনিয়া দীর্ঘ এক যুগের অপেক্ষা ঘোচাতে পারল, কিন্তু ইতালি পারল না!

গাত্তুসো এসব ভেবেই সম্ভবত শেষ পর্যন্ত হয়তো আর চোখের পানি আটকাতে পারেননি। ভেজা চোখে ইতালি কোচ বলেন, ‘এটা কষ্টের। কারণ এটা (বিশ্বকাপে ওঠা) আমাদের নিজেদের জন্য, গোটা ইতালির জন্য প্রয়োজন ছিল। এই ধাক্কা হজম করা সত্যিই কঠিন।’

২৪ বছর পর বিশ্বমঞ্চে

প্রিস্টিনায় প্লে-অফ ফাইনালে কসোভোকে ১-০ গোলে হারিয়ে দীর্ঘ ২৪ বছরের খরা কাটিয়েছে তুরস্ক। ৫৩ মিনিটে কেরেম আকতারকোগ্লুর জয়সূচক গোলটি তুরস্ককে ২০০২ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেয়। সেবার তারা সেমিফাইনাল খেলেছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে ও স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে তুর্কিরা।

২০ বছরের অপেক্ষার অবসান

প্রাগে ডেনমার্কের বিপক্ষে এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জয় পেয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ২-২ গোলে সমতায় ছিল। পরে টাইব্রেকারে ডেনমার্ককে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে চেকরা। তারা ‘এ’ গ্রুপে খেলবে মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে।

৪০ বছর পর ইরাক

আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট কেটেছে এশিয়ান দেশটি। এর ফলে ১৯৮৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাচ্ছে তারা। মেক্সিকোর গুয়াদালুপ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৯ মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় ইরাক। ফ্রি-কিক থেকে আল-আমারির নেওয়া শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে বলিভিয়াকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক গিলের্মো ভিসকারা। তবে পরের মিনিটে ঠিকই এগিয়ে যায় ইরাক। আল-আমারির কর্নারে দারুণ এক হেড দিয়ে এশিয়ান দেশটিকে এগিয়ে দেন আল-হামাদি। ৩৮ মিনিটে সমতা ফেরায় বলিভিয়া। বদলি নামা মার্কো ফারজির পাসে বক্সের ভেতর দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে ৫৩ মিনিটে ইরাককে আবার এগিয়ে দেন আইমেন হুসেইন। এটাই শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোল হয়ে থাকে।

নেই লেভানডফস্কি

পোলিশ সমর্থকদের জন্য রাতটি ছিল হতাশার। স্টকহোমে পোল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে সুইডেন। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ভিক্টর ইয়োরকায়েসের গোলটিই ব্যবধান গড়ে দেয়। রবার্ট লেভানডফস্কি পুরো ম্যাচ খেলেও গোল পাননি। ৩৭ বছর বয়সী এই মহাতারকার সম্ভবত আর বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না। সুইডেন খেলবে ‘এফ’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত