গত আসরের দুই ফাইনালিস্টের লড়াই। কাঠমান্ডুতে দু’বছর আগে নেপালকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল বাংলাদেশ। ভেন্যু বদলেছে, সময়ও গড়িয়েছে। তবে দুই দলের লড়াইয়ের ভাগ্য বদলায়নি। বুধবার মালে ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে জয়সূচক গোলটি করেন মোহাম্মদ মানিক। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বয়সভিত্তিক এই আসরের ফাইনাল নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের। ৩ এপ্রিল ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, যাদের সঙ্গে গ্রুপ পর্বে লড়াইটা শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়।
ম্যাচ শুরুর আগে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ছিল না। আগের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে মেজাজ হারিয়ে লালকার্ড দেখেছিলেন কোচ মার্ক কক্স। তাছাড়া সেই ম্যাচেই চোট পেয়েছিলেন ডিফেন্ডার আশিকুর রহমান। সব মিলিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জটা সামলাতে হয়েছে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুকে। চাপের মুখে কাজটা ঠিকঠাকই করেছেন সাবেক এই ফুটবলার। ম্যাচের এক পর্যায়ে ডেকলান সুলিভানকেও দেন অভিষেকের সুযোগ। রোনান-ডেকলান মিলে শেষ দিকে গোলের কয়েকটি সুযোগও তৈরি করেছিলেন, তবে ব্যবধানটা আর বাড়েনি।
প্রথমার্ধের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করেছে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা কমে আসে। লিড ধরে রাখায় এক পর্যায়ে মনোযোগ দিতে দেখা যায়। এই ম্যাচেও রোনান সুলিভান ভীতি ছড়িয়েছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে। তবে যোগ্য সংগত পাননি নাজমুল হুদা ফয়সাল, মোর্শেদ আলীদের কাছ থেকে। তাই গোল পাননি পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করা রোনান।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠেছিলেন রোনান। তবে ভারসাম্য হারানোয় ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি, তার দুর্বল শট জমা পড়ে নেপাল গোলকিপারের গ্লাভসে। তিন মিনিট পর ভালো জায়গা থেকে নাজমুল হুদা ফয়সাল পোস্টের বাইরে শট নেন।
১১তম মিনিটে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে মুর্শেদ আলী ক্রস দেন গোলমুখে। মার্কারকে টপকে তাতে মোহাম্মদ মানিকের নিখুঁত হেড জালে জড়ালে শুরু হয় বুনো উদযাপন। মালদ্বীপ প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকদের আনন্দের বাঁধ ভেঙে যায়। এই গোলের রেশ থাকতে থাকতেই রোনান জালে বল জড়িয়েছিলেন। তবে অফসাইডে তা বাতিল হলে ব্যবধান ও আনন্দ দ্বিগুণ হয়নি।
ম্যাচের ১৭ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। তবে সুভাস বমের শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন বাংলাদেশ গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন। ২১ মিনিটে হতাশ করেন ফয়সাল। বক্সে উড়ে আসা বল বুক দিয়ে নামিয়ে রোনান বাড়িয়েছিলেন মোর্শেদকে, তার ক্রসে ফয়সালের হেড আটকে দেন নেপাল কিপার। এর কিছু বাদে রোনানকে বল না বাড়িয়ে নিজে গোলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন ফয়সাল।
বিরতির পর ব্যবধান বাড়াতে নেপালের রক্ষণে চাপ দিতে থাকে বাংলাদেশ। ৫৪ মিনিটে ভালো জায়গায় বল পেয়েও পা ছোঁয়াতে পারেননি জয় আহমেদ। এরপর থেকেই বাংলাদেশকে কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে খেলতে দেখা যায়। তাতে আক্রমণ গোছানোর সুযোগ পায় নেপাল। সমতায় ফিরতে মরিয়া আক্রমণ চালায় তারা। তবে বাংলাদেশের নিরেট রক্ষণের চিড় ধরাতে পারেনি তারা। ৮০ মিনিটে উল্টো গোলের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সতীর্থের কাটব্যাক গোলমুখে পাওয়ার পর ডিফেন্ডারের চার্জে ভারসাম্য হারিয়ে শট নিতে পারেননি স্যামুয়েল রাকস্যাম। ৮৭ মিনিটে বদলি নামেন ডেকলান। নেমেই নিজের জানান দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফরোয়ার্ড। যোগ করা সময়ে তার আড়াআড়ি পাসে গোলমুখ থেকে সুমন সরেনের শট অবিশ্বাস্যভাবে ঠেকিয়ে দেন নেপাল গোলকিপার। রেফারির লম্বা বাঁশির আগ পর্যন্ত আর কোনো গোলই হয়নি মালে স্টেডিয়ামে। মানিকের করা একমাত্র গোল গড়ে দিয়েছে হারজিতের ব্যবধান।