ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিন বছর বয়সী শিশু লাবিবকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগে তার বাবা ও সৎ মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান ত্রিশাল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন। এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের রায়েরগ্রাম ভাটিপাড়া এলাকায় হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু লাবিব তার মা লামিয়া আক্তারের সঙ্গে ভাটিপাড়া এলাকায় থাকত। তার বাবা সোহাগও একই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, অভিযুক্ত সোহাগ চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন এবং নিহত শিশুর মা লামিয়া তার তৃতীয় স্ত্রী। পারিবারিক কলহের জেরে দীর্ঘদিন ধরে লামিয়া তার সন্তান লাবিবকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
নিহতের নানা মোজাম্মেল হক জানান, বুধবার বিকেলে সোহাগ লাবিবকে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় তার বাড়ির পাশে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ত্রিশাল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সোহাগ ও সোহাগের প্রথম স্ত্রী জাকিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জামালপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে মারধরের শিকার হয়ে আব্দুল হাকিম নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ছয়জনকে আটক করেছেন। গতকাল সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাতে উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের ঝাওলা গোপালপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল হাকিম ওই এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক।
নিহতের স্বজনরা জানান, পাঁচ বছর আগে ঝাওলা গোপালপুর এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে শামীমের সঙ্গে পাশের এলাকা নরুন্দি কচুনধরা গ্রামের কাদিউর রহমানের মেয়ে কামরুন নাহারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের পারিবারিক কলহ শুরু হয়। সংসারে বনিবনা না হওয়ায় পারিবারিক কলহের সমাধানের জন্য শামীমের বাবা আব্দুল হাকিমের বাড়িতে গত বুধবার রাতে শালিম বসে। এ সময় দুপক্ষের মধ্য কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছেলে শামীমের শ্বশুর কাদিউর রহমানসহ বাকিরা আব্দুল হাকিমকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করে। এতে শামীমের বাবা আব্দুল হাকিম গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত আব্দুল হাকিমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নিজ মাকে গলা কেটে হত্যার মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক ছেলে ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। র্যাবের সহায়তায় কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক বিভাস কুমার সাহার নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে মো. কাসেম (২৮) ও তার স্ত্রী নার্গিস আক্তারকে (২৫) গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আসামিরা বাঁশখালীর বৈলছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব বৈলছড়ি এলাকার বাসিন্দা।
বাঁশখালী থানায় করা হত্যা মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ জুন রাতে কাসেম তার মা রেহেনা বেগমকে (৬২) দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা জলে কাসেম ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাঁশখালী থানার ওসি খালেদ সাইফুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
