ইরানের অবরোধের পর হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে প্রায় ৪০টি দেশ যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বলেন, ইরানের অবিবেচক পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়িক খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বৃহস্পতিবারের (২ এপ্রিল) বৈঠকে ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য সম্ভাব্য জোট গঠন, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। যদিও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে ইরান কোনো ধরনের ট্রানজিট ফি আরোপ করতে পারবে না এমন বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে ওঠে।
আগামী সপ্তাহে সামরিক পরিকল্পনাবিদরা বৈঠকে বসে সম্ভাব্য পদক্ষেপ, যেমন মাইন অপসারণ ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি আলোচনা করবেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার জবাবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রণালীটি পুনরায় চালু করা এখন বৈশ্বিক অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।
প্রথমদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নৌবাহিনী পাঠাতে অনাগ্রহ দেখালেও, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে এখন তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় জোট গঠনের চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স; যুক্তরাষ্ট্র এতে সরাসরি জড়িত নয়।
ফ্রান্সের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র গিয়োম ভেরনে জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এছাড়া জাহাজ মালিকদের আস্থা ফেরানো ও বীমা খরচ কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ওই পথ ব্যবহারকারী দেশগুলোর দায়িত্ব। তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামরিকভাবে প্রণালী দখলের ধারণাকে 'অবাস্তব' বলে মন্তব্য করেছেন।
