যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে অব্যাহত চাপের মুখে ‘মানবিক ও রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ’ ২ হাজার ১০ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে কিউবা। গত বৃহস্পতিবার কিউবার প্রেসিডেন্ট দপ্তর জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে যুবক, নারী ও ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিও রয়েছেন। যাদের সাজার মেয়াদ আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তাদেরই আগাম মুক্তির জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এই তালিকায় বিদেশি এবং বিদেশে বসবাসরত কিউবান নাগরিকরাও রয়েছেন। তবে মুক্তিপ্রাপ্তদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কিউবা দূতাবাস জানিয়েছে, হোলি উইকে (ইস্টার সানডের আগে) ধর্মীয় উদ্যাপনের প্রেক্ষাপটে এদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার নিয়মিত প্রথা।
এক বিবৃতিতে কিউবার প্রেসিডেন্ট দপ্তর জানায়- দণ্ডিতদের অপরাধের ধরন, কারাগারে তাদের আচরণ, সাজার উল্লেখযোগ্য অংশ ভোগ এবং তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানি সং!কটে থাকা কিউবায় অপরিশোধিত তেল সরবরাহের অনুমতি দিয়ে তেল অবরোধ শিথিল করেছেন। কয়েকদিন আগে রাশিয়ার মালিকানাধীন একটি ট্যাংকার আনুমানিক ৭ লাখ ৩০ হাজার অপরিশোধিত তেল নিয়ে কিউবা পৌঁছেছে। জানুয়ারির পর এটাই ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটিতে যাওয়া প্রথম অপরিশোধিত তেলের চালান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কিউবার কমিউনিস্ট শাসনে সংস্কার এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। এ নিয়ে চলতি বছর দ্বিতীয়বার বন্দি মুক্তির ঘোষণা দিল কিউবা। এর আগে ভ্যাটিকানের প্রতি সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে কিউবা সরকার ৫১ জন বন্দি মুক্তি দিয়েছিল। তার কয়েক সপ্তাহ পরই নতুন এ ঘোষণা এলো। ২০২৫ সালেও ভ্যাটিকান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এক চুক্তির আওতায় ৫৫৩ বন্দিকে ছাড়ে হাভানা। এই ঘোষণার সময়ই বৃহস্পতিবার রাশিয়া জানিয়েছে, তারা কিউবায় দ্বিতীয় একটি তেলবাহী ট্যাংকার পাঠাবে।
কিউবার জেলখানাগুলো হাজারও রাজনৈতিক বন্দিতে ভরপুর বলে অভিযোগ করে আসছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। দেশটিতে সরকারের সমালোচকদের নানা ধরনের হয়রানি ও বিচারের মুখোমুখি হতে হয় বলেও তাদের ভাষ্য। মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউবান স্টাডিজ বিভাগের প্রধান মাইকেল বুস্তামান্তে বলেন, ধর্মীয় ছুটির আগে সরকারের এমন পদক্ষেপ নতুন কিছু নয়। তিনি এএফপিকে বলেন- ট্রাম্প প্রশাসনের একটি রুশ জাহাজ এবং সম্ভবত আরও একটি প্রবেশের অনুমতির সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন- এটা ভাবা অযৌক্তিক নয় যে, এটি উভয় সরকারের মধ্যকার আলোচনার অগ্রগতির একটি ইঙ্গিত; হয়তো ধীরে, তবে এগোচ্ছে। তিনি যোগ করেন, ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা গেলে তাদের রাজনৈতিক গুরুত্ব কতটা, সেটিও বোঝা যাবে।