উৎসবের বর্ণিল সাজ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২১ এএম

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে সবাইকে নতুন সাজে, নতুন রঙে দেখা যায়। বৈশাখের সাজের মূল আকর্ষণ চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। আর তাহলো মেকআপ, চুলের সাজ, গহনা এবং পোশাক। এই চারটি উপাদান মিলে পাওয়া যায় বৈশাখের পুরো চিত্র, যা প্রতিটি বাঙালির জন্য বিশেষ ও আনন্দময়।

বৈশাখে মেকআপ : বৈশাখের মেকআপ সাধারণত হালকা ও স্নিগ্ধ থাকে। মুখের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে না, বরং পুরো সাজকে সমন্বিত এবং সমৃদ্ধ করে। মেয়েরা হালকা বেস মেকআপ, চোখের হালকা ছায়া এবং ঠোঁটে নরম রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করে। শাড়ি বা উজ্জ্বল রঙের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে সাজতে গাঢ় কাজল বা আইলাইনারও ব্যবহার করা যায়। মেকআপের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হলো ত্বকের স্বাভাবিক রঙ বজায় রাখা এবং সাজকে দীর্ঘস্থায়ী করা। এ কারণে প্রাইমার, হালকা প্রেসড পাউডার এবং মাঝে মাঝে কনসিলারের ব্যবহার বৈশাখী সাজের অংশ।

চুলের সাজ : চুলের সাজও বৈশাখের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শাড়ি পরার ক্ষেত্রে বেণি বা খোলা চুলের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। অনেকেই চুল স্ট্রেইট করে বা হালকা কার্লি রেখে সাজ দেন। বিশেষভাবে, ফুল দিয়ে চুল সাজানো বৈশাখের প্রচলিত রীতি, যা সাজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ফুলের ব্যবহার করা হয়  খোঁপায় বা  বেনিতে, কখনো কানের পাশে ছোট ফুল বা জিপসি ফুল দিয়ে সাজা যায়। অন্যদিকে সালোয়ার-কামিজ বা আধুনিক পোশাকের সঙ্গে সরাসরি টেনে খোঁপা করা তেমন মানায় না। এ ধরনের পোশাকের সঙ্গে মাথায় ফুলের ব্যান্ডনা দিয়ে সাজতে পারেন।

বৈশাখের গহনা : গহনা বৈশাখের সাজের গুরুত্বপূর্ন অংশ। পহেলা বৈশাখে হাতে তৈরি বা হাতে আঁকা গহনার চাহিদা বেশি থাকে। প্যাচওয়ার্ক, বাঁশ, কাঠ, কড়ি বা ঝিনুক মিলিয়ে তৈরি করা গহনা নজরকাড়া বৈচিত্র্য আনে। সাধারণত  মেয়েরা মাটির গহনা, মুক্তা, তামা, এন্টিক বা আর্টিফিশিয়াল ফুলের মালা ব্যবহার করে। গলায়, কানে এবং হাতে পাট বা কাপড়ের চুড়ি পরতে দেখা যায়। শখ করে অনেক মেয়ে পায়ে পায়েল পরেন। কাচের চুড়ি পরতেও দেখা যায়। মাটির গহনা বিশেষ করে দেশীয় সাজ এই দিনটিতে প্রাধান্য পায় সবার ক্ষেত্রেই কম বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত