রোনান সুলিভান: মেসিলাইক ফি-কিক আর পানেনকা শটের জাদু

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৭ পিএম

আত্মবিশ্বাস আর দুঃসাহসের মধ্যে যে সূক্ষ্ম রেখা থাকে, শুক্রবার রাতে মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে রোনান সুলিভান যেন সেই রেখায় দাঁড়িয়ে এক নতুন ইতিহাস লিখলেন। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে যখন টাইব্রেকারের চূড়ান্ত রোমাঞ্চ, তখন ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড যা করলেন, তাকে স্রেফ 'ম্যাজিক' বললেও কম বলা হবে।

টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শিরোপা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল একটি গোল। এমন কঠিন মুহূর্তে বিশ্বের অভিজ্ঞ ফুটবলাররাও যেখানে ঘামতে শুরু করেন, সেখানে ফিলাডেলফিয়া থেকে আসা রোনান বেছে নিলেন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথ। ভারতীয় গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে তিনি নিলেন একটি 'পানেনকা' শট—একটি হালকা চিপ যা হাওয়ায় ভেসে গিয়ে জালে জড়াল। এই এক শটেই বাংলাদেশ নিশ্চিত করল ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপা।

রোনান সুলিভান - এলেন দেখলেন জয় করলেন

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দল গোল খরায় ভুগলেও, রোনানের আগমন যেন সেই খরা কাটানোর বার্তা দিচ্ছে। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন একাডেমির এই ছাত্রের খেলা বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা:

ট্যাকটিক্যাল ভিন্নতা: রোনান কেবল মাঠের জায়গা দখল করেন না, বরং প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের নিজের ইশারায় নাচান।

ফ্রি-কিক বিশেষজ্ঞ: এই টুর্নামেন্টেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৫ গজ দূর থেকে করা তাঁর ফ্রি-কিক গোলটি এখনও ফুটবলপ্রেমীদের চোখে লেগে আছে।

দ্বৈত ক্ষমতা: মাঠে তাঁর যমজ ভাই ডেকলান সুলিভানের সাথে তাঁর বোঝাপড়া ছিল দেখার মতো।

ফাইনালটি নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকলেও পেনাল্টিতে রোনান প্রমাণ করেছেন তাঁর ধমনীতে বইছে 'বরফ শীতল' রক্ত। এই পানেনকা শটটি কেবল একটি জয়সূচক গোল ছিল না; এটি ছিল বাংলাদেশের ফুটবলে এক নতুন প্রজন্মের ঘোষণা। এমন এক প্রজন্ম যারা ইতিহাসের ভারে নুয়ে পড়ে না, যারা বিদেশের মাটিতে বড় মঞ্চে বুক চিতিয়ে লড়তে জানে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত