মশা মারার কামান দাগা হচ্ছে প্রতিদিন। বিকট শব্দে ধোঁয়ার সাম্রাজ্যে পড়ে তারা মাথা ঘুরে পড়ে যায়, কিন্তু মরে না। এই কথা, আগে সাধারণ বাসিন্দরা বলতেন, এখন সিটি করপোরেশন কর্তারাও স্বীকার করছেন। তবু তারা এই নিধনযজ্ঞ থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না। কেন পারছেন না? বলছেন, এই পদ্ধতিতে কাজ না হলেও জনমনে বিশ্বাস জন্মাবে যে-সিটি করপোরেশন কাজ করছে। এই সান্ত্বনা থেকে, ফগিং পদ্ধতি চলছে। নতুন দুই প্রশাসকও এই ঘুলঘুলি থেকে বেরিয়ে আসছেন না। তারা বিভিন্ন দেশের মশা নিধনের কাজ লক্ষ করছেন। সেই পদ্ধতি যদি কার্যকর হয়, তাহলে সেই পথে তারা নামবেন। এটা হচ্ছে ভবিষ্যতের কথা। কিন্তু ফগিং কেন ছাড়তে পারছেন না এই ডিজেল সংকটের কালে? প্রতিদিন দুই সিটির ফগিং কার্যক্রম চালাতে, পুড়ছে ১০ হাজার লিটার ডিজেল। ডিজেলের মধ্যে কীটনাশক তরল ওষুধ দিতে হয় ৫ শতাংশ করে, তাতেও কাজ হয় না। কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পদ্ধতি অকার্যকর। তারপরও কেন আটকে আছেন তারা। মশকের সঙ্গে তারা কি সন্ধি করেছেন? নাকি ঠিকাদারদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে, মশা প্রজন্মে সহায়তা দিচ্ছেন?
ফগিং মেশিনে ডিজেলের মধ্যে দিতে হয়, মালাথিয়ন ও ডেল্টামেথ্রিন। ১ হাজার লিটার ডিজেলে ৫ শতাংশ করে ওই ওষুধ দিয়ে মশার মাথাও ঘোরানো যায় না। আর পৃথিবীতে মশা নিধনের মারণাস্ত্র ওষুধ কি বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেননি? তাহলে কেন গত ৩০ বছর ধরে ধোঁয়ার সাম্রাজ্য নিয়ে লাখ লাখ টাকা প্রতিবছর ব্যয় করা হচ্ছে? সিটি করপোরেশনের বিশেষজ্ঞরা কি দয়া করে বলবেন, কেন তারা এ পদ্ধতির মায়া ত্যাগ করতে পারছেন না? সে কি কেবলি কমিশন-মোহে নাকি মহানগরবাসীকে রোগাক্রান্ত করার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে? বিশেষজ্ঞরা খুঁজছেন, উন্নত দেশগুলো কোন ধরনের মেডিসিন ব্যবহার করে মশার মতো মারাত্মক কীট ধ্বংস করে জনজীবনকে শঙ্কামুক্ত রাখছে? প্রশ্ন হচ্ছে, আজ কেন এই পথে যাচ্ছেন? সাবেক মেয়র তো বলেছিলেন- ফগিং করে মশা তাড়ানো যায় না। আসন্ন মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ হতে পারে। এখন যদি মশার লার্ভা নষ্ট করা না যায়, তাহলে সামনের দিনগুলো ভয়াবহ হতে বাধ্য।
মহানগরের বাসিন্দাদের কী দায়িত্ব আছে, তা কি ভুলে গেছি? আমরা রাস্তাঘাটে কেবল ময়লা-আবর্জনা ফেলি না, ড্রেনগুলোতে অহরহ আবর্জনা ফেলে, মশা উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত করি। এখনই যদি করপোরেশন জনবল নিয়োগ করে মহানগরের বিদ্যমান খাল ও নানা-নর্দমা পরিষ্কার না করে, তাহলে বৃষ্টির পানি নামতে পারবে না। নর্দমাগুলো পরিষ্কার করার দায়িত্ব করপোরেশনের। তাদের লোকবলও আছে, কিন্তু তারা কাজ করার চেয়ে বসে থাকতে বেশি পছন্দ করেন। তাদের যথাযথভাবে ট্রেনিং দিয়ে কর্মউদ্যোগী করলে মশা জন্মাতে পারবে না। অহেতুক ফগিং করে শিশুর মনে ভয় ঢোকানোর চেয়ে রাস্তাঘাট, নালা-নর্দমা, ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ভালো উদ্যোগ বলে বিবেচিত হবে। মশক নিধনের এর চেয়ে ভালো পদ্ধতি আর নেই। ফগিং করে সান্ত্বনা দেওয়া যাবে কিন্তু লাভের লাভ কিছু হবে না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে প্রকৃত পেস্ট কনট্রোলের কেমিক্যাল জোগাড় করার বিকল্প নেই। মহানগরের হাসপাতালগুলোতেই পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে। তাদের বর্জ্যও মারাত্মক রোগের কারণ হয়ে আছে। আর প্রত্যেক বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নোটিস জারি করে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। মশা নিধনের আগে মশার বংশবৃদ্ধি প্রতিরোধ করাই ভালো উদ্যোগ হবে। সিটি করপোরেশন দুটির প্রশাসক তো রাজনীতিক, তারা জানেন জনগণের কল্যাণে কী করতে হবে। সেটাই রাজনীতিকের দায়িত্ব, কর্তব্য।
মশা মারতে কামান
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫১ এএম
আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
মশা মারতে কামান
×
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০