মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার চর বাউশিয়া মৌজায় বৈধভাবে জমি কিনেও দখল নিতে পারছেন না উপজেলা যুবদলের এক নেতা। প্রতিপক্ষের বাধার কারণে বর্তমানে ওই জায়গায় তার বাড়ি নির্মাণ বন্ধ রয়েছে। এর প্রতিকার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম মেম্বার। শনিবার(৪এপ্রল) বেলা ২টায় উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নে এক রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী দাবি করেন, মালিকানার স্বপক্ষে কোনো বৈধ প্রমাণ দেখাতে না পেরেও একটি পক্ষ কেবল হয়রানি ও মানহানি করার উদ্দেশ্যে তাকে বাধা প্রদান করছে। খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার চর বাউশিয়া মৌজায় কালু সরকার নামের ব্যক্তি সিএস রেকর্ডমূলে প্রায় আড়াই একর সম্পত্তির মালিক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কালু সরকারের ওয়ারিশদের থেকে ২৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন স্থানীয় মনু মিয়া। বিগত এসএ ও আরএস ৪২ নং খতিয়ান ২৬৯৪ নং দাগের ২৭ শতাংশ সম্পত্তি মুন মিয়ার নামে লিপিবদ্ধ হয়ে প্রচারিত হয়। মনু মিয়া তার জীবদ্দশায় উক্ত সম্পত্তির পুরোটা তার চার ছেলের মধ্যে এক ছেলে ফারুক ও তিন মেয়ে যথাক্রমে তাসলিমা, নাসিমা ও জেসমিনকে লিখে দেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মনু মিয়ার ওয়ারিশদের কাছ থেকে ৮ শতাংশ এবং অন্য দাগে কালু সরকারের ওয়ারিশদের কাছ থেকে ৭ শতাংশসহ মোট ১৫ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন। বর্তমানে নজরুল ইসলাম তার ক্রয়কৃয় জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে মনু মিয়ার অন্য ওয়ারিশরা বাধা দিয়েছে। সরেজমিনে শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভবন নির্মাণের জন্য স্তূপ করে রাখা বালু ও ইট পড়ে আছে তবে বাধার মুখে কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিপক্ষের বাধার মুখে বাড়ি নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে নজরুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, আমি বৈধ দলিলে জমি কিনেও দখল নিতে পারছি না। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল অথচ কাজ করতে গেলে অভিযোগ তোলা হয় যে আমি দলীয় প্রভাব খাটাচ্ছি। বিবাদী পক্ষের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই এবং তারা বারবার সালিশি বৈঠকও প্রত্যাখ্যান করছে। মূলত আমাকে হয়রানি করে প্রতারণার মাধ্যমে জমি হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে তারা।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষের রিমা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, নজরুল ইসলাম জমি কেনার আগেই তার পিতা বাবুল মিয়া ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক হয়েছেন। তিনি আরও জানান, আরএস রেকর্ডেও তারা উক্ত সম্পত্তির মালিক। নজরুল ইসলাম প্রভাবশালী হওয়ায় জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে তারা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবাদুল হক বলেন, বিষয়টি মীমাংসার জন্য আমি উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার চেষ্টা করেছি। নির্ধারিত দিনে নজরুল ইসলাম উপস্থিত হলেও প্রতিপক্ষ একাধিকবার সময় দিয়েও উপস্থিত হয়নি। ফলে বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত। গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থাকলে যে কেউ থানায় অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।