গণভোট ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে জামায়াত-এনসিপি!

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) জাতীয় সংসদের বিরোধী দল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু বড় আকার ধারণ করলে দেশে ফের তৈরি হতে পারে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা।

বিরোধী দলের নেতারা বলেছেন, এসব অধ্যাদেশ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেগুলো বাতিলের উদ্যোগকে তারা আখ্যা দিচ্ছেন ‘জনস্বার্থবিরোধী’ হিসেবে। ইতোমধ্যে তারা বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন রাজনৈতিকভাবে এবং চিন্তাভাবনা করছেন টানা মাঠের কর্মসূচিতে যাওয়ার।

চলমান অধিবেশনের শুরু থেকেই গণভোট বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে উত্তপ্ত ছিল সংসদ। বিশেষ করে, সর্বশেষ ৩ দিন এটি নিয়ে বিতর্ক হয় ব্যাপক। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারংবার দাবি জানালেও নিজেদের অবস্থানে অটুট থাকে সরকারি দল। এরইমধ্যে গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিলের প্রস্তাবে উত্তাপ ছড়িয়েছে বিরোধী দলগুলো।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদে ‘আশানুরূপ সাড়া’ না পেয়ে মাঠের কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনাও করছে বিরোধী দলগুলো। গত বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর এ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমীর ড. শফিকুর রহমান। পরদিন বৃহস্পতিবার আন্দোলনের বিষয় নিয়ে রাজধানীর গুলশানে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের বাসায় দুই ঘণ্টার বৈঠক করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হয়ে মতামত দেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আন্দোলনে যাওয়ার বিষয়ে বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। তারই অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার জুলাই সনদ কার্যকর এবং গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ১১ দলীয় জোট। আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) শীর্ষ নেতাদের পরবর্তী বৈঠক থেকে দীর্ঘমেয়াদী কঠোর আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে বলেও জানায় ১১ দলীয় জোট।

জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুলাই সনদ কার্যকর ও গণভোট অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে পালন করা হবে টানা কর্মসূচি। রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে করা হবে বাধ্য। এ ছাড়া কাল সোমবার থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনেও বিষয়গুলো নিয়ে সরব অবস্থানে থাকবে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সরকার যদি নিজেদের অবস্থানে অটুট থাকে তাহলে ফের সংসদ ওয়াকআউট ও বর্জনের সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়ে অনেকটা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতোই ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে। তিনি বলেছেন, সরকার সংসদ পরিচালনায় পরিচয় দিয়েছে ব্যর্থতার। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত