প্রকৃতির অপার বিস্ময়ের ভান্ডারে এক ব্যতিক্রমী সংযোজন নাগলিঙ্গম ফুল। লালচে-গোলাপি পাপড়ির ভেতরে জটিল ও শৈল্পিক গঠন যেন এক নিখুঁত শিল্পকর্ম, যা দেখলেই মুগ্ধ হতে হয়। সৌন্দর্য আর গঠন দুইয়ের মেলবন্ধনে এই ফুল সহজেই আলাদা করে নেয় নিজস্ব পরিচয়। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার আব্দুল্লাহ আল হোসেন শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে একটি নাগলিঙ্গম ফুল গাছ রোপণ করেন। সময়ের ব্যবধানে গাছটির বয়স এখন ৩৩ বছর। গাছটিতে ফুটেছে প্রচুর ফুল, সঙ্গে আছে কয়েকটি ফলও। তা দেখতে নিয়মিত সেখানে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, নাগলিঙ্গম ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম ঈড়ঁৎড়ঁঢ়রঃধ মঁরধহবহংরং। এটি একটি পাতাঝরা বহুবর্ষী বৃক্ষ, যা অনুকূল পরিবেশে প্রায় ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছে প্রতিদিন অসংখ্য ফুল ফোটে। প্রতিটি ফুলই আলাদা আকর্ষণ নিয়ে ফুটে ওঠে এবং চারপাশে ছড়িয়ে দেয় মিষ্টি সুবাস। এই ফুলের সঙ্গে মৌমাছির রয়েছে গভীর সম্পর্ক। মৌমাছিরা ফুল থেকে রেণু সংগ্রহ করে এবং একই সঙ্গে পরাগায়নের কাজ সম্পন্ন করে। সংগৃহীত রেণু তারা নিজেদের বাচ্চাদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। এই পারস্পরিক নির্ভরতা প্রকৃতির এক অসাধারণ সমন্বয়ের উদাহরণ। নাগলিঙ্গম সারা বছরই ফুল দেয়, তবে ফল্গুন-চৈত্র মাসই ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম। শীত ও শরতে তুলনামূলকভাবে ফুল কম ফোটে। বাংলাদেশে এই গাছ খুব বেশি দেখা যায় না, ফলে অনেকের কাছেই এটি এখনো অপরিচিত।
প্রকৃতিপ্রেমী শিমুল তরফদার বলেন, ‘নাগলিঙ্গম ফুল আগে শুধু ছবিতেই দেখেছি। বাস্তবে দেখে সত্যিই অভিভূত হয়েছি। এর গঠন ও সুবাস দুটোই অসাধারণ এবং সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী।’
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বর্তমান পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় এখানে ব্যাপকভাবে নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করা হতো। এখান থেকে অনেকেই চারা সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে লাগিয়েছেন। গাছের কা- থেকে থোকায় থোকায় ফুল ফোটার দৃশ্য নাগলিঙ্গমকে অন্যসব ফুল থেকে আলাদা করে তুলেছে। এর মুগ্ধকর সুবাস ও অনন্য গঠন সহজেই যে কারও মন ছুঁয়ে যায়।’
