মহাপরিচালক বললেন

র‌্যাবের মতো সংগঠন থাকার প্রয়োজন আছে

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

‘র‌্যাবের মতো এ ধরনের একটি সংগঠন থাকার প্রয়োজন আছে। এটি অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। র‌্যাব পুলিশেরই একটি সংগঠন। সুতরাং আলাদাভাবে দেখছি না। র‌্যাবের প্রয়োজনের বিষয়েও দ্বিমত নেই। সংস্থাটিকে বাইরে থেকে যা দেখেছি, এখানে এসে আরও বেশি সুসংগঠিত দেখছি বলে মন্তব্য করেছেন র‌্যাবের ১২তম মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ।

গতকাল রবিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ‘সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাবের পরিচালিত বিভিন্ন আভিযানিক সাফল্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, সংগঠনটিকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমি চাই, পেশাদার, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সংগঠন গড়ে উঠুক। অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাব সামনে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। র‌্যাবের ওপর মার্কিন স্যাংশন ও দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘র‌্যাব গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন কোন সময় কী কী অপরাধের কারণে এই ঘটনাগুলো ঘটল। তাহলে নিজেরাই বুঝতে পারবেন, কাজের ক্ষেত্রে হয়তো কিছুটা বিচ্যুতি, পদস্খলন ছিল। এসব ছিল বলেই এমন একটা বিষয় থাকতে পারে। সেই জায়গাটা যদি পুনর্গঠন করতে পারি, তাহলে যেই স্যাংশনের বিষয়টি আছে, এগুলো থাকবে না। কাজ দিয়ে আসলে প্রমাণ করতে চাই। কিছুটা প্রমাণ গত দেড় বছরে দেখিয়েছি ভালোভাবে থাকতে পারি, ভালো কাজ করতে পারি। আশা করি সমস্যা হবে না।

আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘মূল কাজটা হলো র‌্যাবকে জনগণের কাছে কাজের মাধ্যমে উপস্থাপন করা। কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা। র‌্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘র‌্যাবের কার্যক্রমগুলো যদি পর্যালোচনা করে দেখেন, র‌্যাবের অপকীর্তির ইতিহাস কিন্তু বেশি নেই। এতেই প্রমাণিত হয়, র‌্যাবকে যদি সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তাহলে র‌্যাব সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে।’

‎সরকার পতনের পর জলদস্যু ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপের তৎপরতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘এগুলো র‌্যাবের দৃষ্টিগোচরে আছে। বিগত সময়ে নানা কারণে এটা নিয়ে কাজ করতে পারিনি। নির্বাচন ছিল প্রায়োরিটির জায়গা। কিন্তু এখন চিন্তাভাবনা আছে, তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেব। দেশে জঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ বিষয়গুলো আছে কি নেই একবারে কথাগুলোর জবাব দিতে চাইব না। কিন্তু কাজ করছি। যেই বাদই থাকুক না কেন বা যদি কিছু থেকে থাকে সেগুলো নির্মূল করতে পারব।

র‌্যাবের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘নাম পরিবর্তন, পুনর্গঠনের বিষয়গুলো সরকারের বিবেচনার বিষয়। সরকার যেভাবে বিষয়গুলো বিবেচনা করবে সেটাই হবে। সুতরাং আমাদের প্রসেসের ভেতরে থেকে বিষয়ে ভূমিকা রাখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

‎‎সম্প্র্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর র‌্যাবের ক্রসফায়ার মামলার তদন্তের বিষয় নিয়ে এসেছেন। এসব বিষয়ে র‌্যাব কতটুকু সহযোগিতা করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যে কোনো বিষয় র‌্যাবের কাছে সহযোগিতা চাইলে করা হবে। যেটুকু তথ্য আছে, যা আছে তার ভিত্তিতে সহযোগিতা করব। যা নেই বা দেওয়ার সামর্থ্য থাকবে না তা হয়তো দিতে পারব না।

র‌্যাবের আভিযানিক সাফল্য : র‌্যাব চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ (গত তিন মাসে) অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযান পরিচালনা করেছে ৩৩১টি। এতে অস্ত্রসহ ১০৪ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে। উল্লেখযোগ্য অভিযানগুলো হলো গত ৮ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জে, ৯ মার্চ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায়, ১০ মার্চ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এবং ২৭ মার্চ রাজধানীর রূপনগর এলাকায় পরিচালিত অভিযান।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলার সীতাকু- থানার জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাব সদস্য ডিএডি মোতালেব হোসেন নিহত হয়। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে র‌্যাব একটি মামলা করে। গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান পরিচালনে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৯০ দিনে হত্যা সংক্রান্ত মামলায় ৪৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ১৭৫ জন, ছিনতাইকারী ৬১ জন, ডাকাত ১০৬ জন, মানবপাচারকারী ২৬ জনসহ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় ৩ হাজার ৪৭৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ১১৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাড়ে ৩ হাজার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে র‌্যাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত