‘শত্রু জাহাজ’ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে ইরান ইতোমধ্যেই প্রতিপক্ষের ওপর তীব্র চাপ তৈরি করেছে। এর মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ আরেক সংকীর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি। যাতে আরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আগ্রাসনের পর ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সেটি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটিমাত্র ‘ভুল’ পদক্ষেপেই বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও ব্যাহত হবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর ভেলায়াতি রোববার (৫এপ্রিল) এ সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেছেন, রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের ইউনিফায়েড কমান্ড কৌশলগতভাবে বাব আল-মান্দেব প্রণালীকে হরমুজ প্রণালির সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
তিনি জোর দিয়ে আরও বলেন, হোয়াইট হাউসের যেকোনো ‘অবিবেচক’ পদক্ষেপ দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পথ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে গুরুতর বিঘ্ন ঘটাতে পারে। বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে ইঙ্গিত করে ভেলায়াতি বলেন, হোয়াইট হাউস যদি তার ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করার দুঃসাহস দেখায়, তবে তারা শিগগিরই করবে যে, একটি মাত্র পদক্ষেপেই বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের প্রবাহ ব্যাহত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের কিছু দিক ইরানের কাছ থেকে শিখলেও, ‘ক্ষমতার ভূগোল’ এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারেনি।
গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরগুলোতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার এ মন্তব্য এলো। প্রতিবেদন অনুসারে, শত শত জাহাজ কাছাকাছি এলাকায় নোঙর করে আছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানি ও তেল রফতানিকারকরা কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান হরমুজ প্রণালী না খুললে দেশটির ওপর ‘ভয়াবহ’ হামলা হবে এবং তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র।