আরপিও, ভোটার তালিকা সংশোধনসহ ৭ বিল পাস

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ইতিমধ্যে ৯টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সোমবার সাতটি বিল পাস হয়েছে। একই দিনে আরও তিনটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। এই বিলগুলোর ওপর বিরোধী দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকায় পরবর্তী কার্যদিবসে আলোচনা শেষে পাস হতে পারে। এর আগে গত রবিবার দুইটি বিল পাস হয়েছে। এদিকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় আগামী ১২ তারিখের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো বিল পাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সময় স্বল্পতার কারণে আজ থেকে দিনে দুই বেলা অধিবেশন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে আইনে রূপান্তরের জন্য বিল আকারে উত্থাপনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই ৯৮টি অধ্যদেশের মধ্যে গতকাল ১০টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হয়। এই ১০টি বিলের মধ্যে সাতটি পাস হয়েছে। বাকি তিনটি বিল আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে। এছাড়া ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা সংশোধন আইনের বিল যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিতে পাঠানো হয়। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশের ১০টি বিল উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আর কৃষিভূমি সুরক্ষা আইনের বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইনের বিলগুলো হচ্ছে ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন- ২০২৬, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশোধন আইন-২০২৬, নির্বাচন কমিশন কর্মচারী (বিশেষ বিধান) সংশোধন আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং বাংলাদেশ ল অফিসার্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬।

এদিকে বিরোধী দলের আপত্তি থাকায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) আইন-২০২৬, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, (রহিতকরণ) আইন-২০২৬ আলোচনার জন্য রাখা হয়। বিলগুলো উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আপত্তি জানাতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এই বিলগুলো আজ শুধু উত্থাপন করা হচ্ছে। আপনাদের আপত্তি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আলোচনা হবে।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন-২০২৬ বিলের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদশ-২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।

বিলের কপি না পাওয়ায় ক্ষোভ, প্রয়োজনে শুক্রবারও অধিবেশন : এদিকে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী বিল উত্থাপনের তিন দিন আগে বিলের মূল কপি হাতে না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে দ্রুত আইনে রূপান্তর করতে স্পিকার তার বিশেষ ক্ষমতাবলে বিল উত্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন। এদিকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে শতাধিক বিল পাস করতে দিনের দুই সেশনে অধিবেশন কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে শুক্রবারও অধিবেশন চলতে পারে।

গতকাল রাতে বিল পাসের সময় বিলের মূল কপি না পাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এরপরে ফ্লোর নিয়ে একই বিষয়ে নিয়ে কথা বলেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। কার্যপ্রণালি বিধি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিধিতে আছে বিলের প্রতিলিপি অন্তত তিন দিন আগে সদস্যদের হাতে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু আমাদের ৪৯ পৃষ্ঠার একটি বিশাল দলিল এইমাত্র দেওয়া হলো। আমরা নতুন এমপি, আমাদের শেখার সময় দিতে হবে। এভাবে হুট করে বিল দিলে আমরা আলোচনা করব কীভাবে? আমরা অধিকার বঞ্চিত হচ্ছি।

সাংসদ মিলনের আপত্তির জবাবে স্পিকার বলেন, ‘বিধিতে তিন দিনের কথা বলা থাকলেও স্পিকারের একটি বিশেষ ক্ষমতা (ঝঢ়বপরধষ অঁঃযড়ৎরঃু) আছে। জরুরি প্রয়োজনে তিনি সেই সময়সীমা মওকুফ (ঈড়হফড়হব) করতে পারেন। সেই ক্ষমতা বলেই বিলটি এখানে আনা হয়েছে’।

এদিকে বিরোধী দলের আপত্তির বিষয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সামনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ রয়েছে। সংবিধানের ৯৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইনে রূপান্তর না করলে ল্যাপস (বাতিল) হয়ে যাবে। এতে দেশ বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়বে। আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে এ সবগুলো বিল পাস করতে হবে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি বিলের ৯০০টি করে কপি তৈরি করতে বিজিবি প্রেস ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। সময়ের অভাবে আমরা বিলের কপি আগেভাগে পৌঁছাতে পারিনি বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

চিফ হুইপ জানান, স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার (আজ) থেকে প্রতিদিন দুই সেশনে (সকাল সাড়ে ১০টা এবং বিকেল সাড়ে ৩টা) অধিবেশন চলবে। আগামী বৃহস্পতিবারের ‘বেসরকারি সদস্য দিবস’ বাতিল করে বিল পাসের জন্য ‘সরকারি দিবস’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজন হলে আগামী শুক্রবার বিকেলেও অধিবেশন চলবে।

চিফ হুইপ বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, আমরা ১৭ বছর জুলুম ও জেল-জুলুমের শিকার হয়ে এই সংসদ গঠন করেছি। আয়নাঘরের শিকার আজহার সাহেবও এখানে আছেন। আমরা চাই গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে। আমাদের এই সীমাবদ্ধতা আপনারা আশা করি উপলব্ধি করবেন। পরবর্তী সময়ে বিল পাস ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপরে সংসদের অধিবেশন আজ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত