বাংলাদেশ প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার। নদীমাতৃক ভূপ্রকৃতি, পলিমাটির উর্বরতা ও ঋতুবৈচিত্র্যের সম্মিলনে এ দেশ বহু শতাব্দী ধরে কৃষিনির্ভর সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছে। হিমালয়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা অসংখ্য নদ-নদীর স্রোত, যুগের পর যুগ পলি জমা করে দেশের ভূমিকে করেছে উর্বর ও প্রাণবন্ত। বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ অঞ্চলের অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ এমন একটি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের অধিকারী, যেখানে কৃষি উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য দীর্ঘদিন ধরে সহাবস্থানের সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ফসলের বৈচিত্র্য, জলজ সম্পদের প্রাচুর্য, গবাদিপশু, বনজ উদ্ভিদ ও অণুজীবের সমন্বয়ে এ দেশের কৃষিব্যবস্থা একটি সুসমন্বিত এবং পরিবেশগত কাঠামো গড়ে তুলেছে। এই বৈচিত্র্য শুধু খাদ্য উৎপাদনের ভিত্তি নয়; বরং অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতার অন্যতম স্তম্ভ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যমতে, বৈশি^ক খাদ্য উৎপাদনের বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ বাস্তবতা স্পষ্ট। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে কৃষি খাত কেবল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ নয়, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রধান উৎস হিসেবেও কাজ করছে। কৃষিব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ফসল, মাছ, গবাদিপশু, বনজ উদ্ভিদ ও মাটিতে থাকা অণুজীবসহ নানা জীববৈচিত্র্য দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে সময়ের পরিবর্তন, নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ও বাজারভিত্তিক উৎপাদন প্রসারের কারণে এই সহাবস্থানের ধরন ক্রমে বদলে যাচ্ছে, যা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই কৃষিব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
এক সময় বাংলাদেশের কৃষি ছিল মূলত পারিবারিক চাহিদাভিত্তিক। কৃষকরা স্থানীয় বীজ ব্যবহার করতেন, জমিতে বহুবিধ ফসল চাষ হতো এবং কৃষিকাজ প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত ছিল। একই জমিতে ধান, ডাল, তেলবীজ ও শাকসবজির মতো বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের ফলে কৃষিজ বাস্তুসংস্থানে স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় থাকত এবং মাটির উর্বরতাও দীর্ঘদিন থাকত অক্ষুণœ। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বাজার অর্থনীতির বিস্তার এবং খাদ্য চাহিদার ক্রমবর্ধমান চাপ, কৃষিকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে নিয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর দেশের জনসংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি, উচ্চফলনশীল জাত এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ধানের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ১ টনের কিছু বেশি থেকে বেড়ে প্রায় সাড়ে ৪ টনের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা খাদ্যনিরাপত্তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে একই সঙ্গে একমুখী ফসল চাষের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্থানীয় জাতের ব্যবহার কমে গেছে। কীটনাশকের ব্যবহার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকারী পোকামাকড় ও মাটির অণুজীবের বৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে। ফলে খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হলেও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ভূমির ব্যবহারগত রূপান্তর, বাংলাদেশের কৃষি জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উর্বর কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়ি, সড়ক, শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের ফলে আবাদি জমি স্থায়ীভাবে অন্য খাতে চলে যাচ্ছে যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য উৎপাদন এবং বাস্তুসংস্থার ভারসাম্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি বনভূমি উজাড় এবং জলাভূমি ভরাটের কারণে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক বন কমে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীরা খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে, যা মানুষ ও প্রাণীর সংঘাত বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং অনেক প্রজাতির অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। উপরন্তু অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার উপকারী পতঙ্গের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস করছে, কারণ এসব রাসায়নিক উদ্ভিদের শিকড়, কাণ্ড, পাতা, ফুল ও পরাগরেণুর মাধ্যমে ছড়িয়ে গিয়ে পতঙ্গের স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে পরাগায়নকারী পতঙ্গের সংখ্যা কমে গেলে খাদ্য উৎপাদনও ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং কৃষি জীববৈচিত্র্যের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বিঘিœত হয়। এই পরিস্থিতিতে সমন্বিত চাষপদ্ধতি কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষার একটি কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমন্বিত কৃষিব্যবস্থায় একই জমিতে ফসল, মাছ এবং গবাদিপশুর সমন্বিত উৎপাদন সম্ভব হয়, যা পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে জমির উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকের আর্থিক লাভও বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জার্মপ্লাজম ব্যাংকে বর্তমানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৮ হাজার ৬০৪টির বেশি ধানের জিনগত উপাদান সংরক্ষিত রয়েছে। যেখানে স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায়, আধুনিক ও বন্য ধানের প্রজাতিও অন্তর্ভুক্ত। এই জেনেটিক সম্পদের ভিত্তিতে দেশে ১২১টি উচ্চফলনশীল আধুনিক ধানের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে ১১৩টি ইনব্রিড ও ৮টি হাইব্রিড জাত রয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্যের মূল উপাদান হলো কালটিভার বা চাষযোগ্য উদ্ভিদ, যা চাষাবাদের মাধ্যমে বিবর্তিত হয়ে মানুষের যতেœ টিকে আছে। ধান দেশের প্রধান ফসল; ১৯৭০ সালে জনসংখ্যা প্রায় সাত কোটি থাকাকালে ধানের গড় ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি এক টনের কিছু বেশি আর বর্তমানে জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হলেও ফলন বেড়ে হেক্টরপ্রতি প্রায় সাড়ে চার টনের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন, উন্নত চাষপদ্ধতি ও জীববৈচিত্র্যের কার্যকর ব্যবহারের ফল। তবে একই সঙ্গে বহু স্থানীয় ধানের জাত বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যদিও এসব দেশীয় জাত প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনশীল এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজিত ছিল। তাই আধুনিক উচ্চফলনশীল জাতের পাশাপাশি দেশীয় ধানের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এটি কৃষির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। রাসায়নিক কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, কৃষি জীববৈচিত্র্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে দেশে কীটনাশকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে শুধু ক্ষতিকর পোকা নয়, বরং উপকারী পোকাও ধ্বংস হচ্ছে। মাকড়সা, মৌমাছি, লেডিবার্ড বিটলসহ বিভিন্ন উপকারী পতঙ্গ কৃষি বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রাকৃতিকভাবে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বা আইপিএম প্রযুক্তি রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে, পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। ফেরোমোন ফাঁদ, প্রাকৃতিক শত্রু এবং যান্ত্রিক দমন পদ্ধতির ব্যবহার কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা করে। জলবায়ু পরিবর্তন কৃষি জীববৈচিত্র্যের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার এবং অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষির স্বাভাবিক চক্রকে ব্যাহত করছে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বিশাল অংশ ইতিমধ্যে লবণাক্ততার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লবণাক্ততা শুধু ফসলের উৎপাদন কমায় না, বরং মাটির উর্বরতা এবং অণুজীবের বৈচিত্র্যও নষ্ট করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন এবং অভিযোজনমূলক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি কৃষকদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। মৃত্তিকা বা মাটি হলো কৃষি জীববৈচিত্র্যের অন্যতম ভিত্তি এবং এটি কৃষিকাজের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার মূল উপাদান। মাটিতে উপস্থিত জৈব উপাদান এবং অণুজীব ফসলের পুষ্টি গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণস্বরূপ, রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া এবং মাইকোরাইজা ছত্রাকের মতো উপকারী অণুজীব, ফসলের শিকড়ের সঙ্গে মিথোজীবী সম্পর্ক গড়ে তোলে, যা পুষ্টি শোষণ এবং ফসলের বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। কিন্তু নিবিড় চাষাবাদ এবং রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ও নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের ফলে এসব উপকারী অণুজীব ক্রমে ধ্বংস হতে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন এবং মাটির উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ছাড়াও স্থানীয় বীজ সংরক্ষণও কৃষি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় জাতের বীজ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বেশি উপযোগী, তবে আধুনিক উচ্চফলনশীল ও হাইব্রিড বীজের ব্যাপক প্রসারের ফলে এসব স্থানীয় জাত বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। সুতরাং শুধু আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারই নয়, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ এবং কৃষকের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও টেকসই কৃষিব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কৃষি জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পরাগায়নকারী পতঙ্গ, বিশেষ করে মৌমাছি, যা শুধু মধু উৎপাদনের জন্য নয়; বরং কৃষি উৎপাদন, উদ্ভিদের বংশবিস্তার এবং জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। বিশ্বের ১১৫টি প্রধান খাদ্য ফসলের প্রায় ৭৫ শতাংশ পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল হলেও বাংলাদেশে এ বিষয়টি দীর্ঘদিন উপেক্ষিত।
কৃষকরা সাধারণত মৌমাছি ও পরাগায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন নন, অথচ মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গ সরিষা, লিচু, ফল ও সবজির উৎপাদন ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। কিন্তু অবিবেচনাপ্রসূত কৃষি কার্যক্রম ও রাসায়নিক কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার এসব উপকারী পতঙ্গের সংখ্যা কমাচ্ছে। ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের শোষক পোকা দমনে ব্যবহৃত কীটনাশক পোকামাকড়ের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে পক্ষাঘাত ও মৃত্যু ঘটায়। পাশাপাশি কীটনাশক উদ্ভিদের শিকড়, কাণ্ড, পাতা, ফুল, মকরন্দ ও পরাগরেণুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে মৌমাছিসহ অন্যান্য পতঙ্গের নার্ভাস সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। এর ফলে কেবল মধু উৎপাদনই কমে না, উদ্ভিদের বংশবিস্তার হুমকির মুখে পড়ে এবং খাদ্য উৎপাদনের স্থিতিশীলতাও ঝুঁকিতে পড়ে। তাই মৌমাছিসহ পরাগায়নকারী পতঙ্গ সংরক্ষণ এবং রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ কৃষি জীববৈচিত্র্য রক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও টেকসই কৃষির জন্য অপরিহার্য। সবকিছু বিবেচনায় বলা যায়, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরস্পরের পরিপূরক। কৃষি উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হলে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অপরিহার্য। পরিকল্পিত ভূমি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, গবেষণা এবং কৃষকের ঐতিহ্যগত জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে পারলে কৃষি ও প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য রাখা সম্ভব। উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রকৃতিকে উপেক্ষা করলে কৃষির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাই কৃষির উন্নয়নকে প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে, কারণ জীববৈচিত্র্য রক্ষা মানেই টেকসই কৃষি এবং নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।
লেখক: সিনিয়র কৃষিবিদ, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান ডিআরপি ফাউন্ডেশন