পরিবেশ ভারসাম্যে চামচিকা 

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:২০ এএম

ক্ষুদে চামচিকা, ভেসপার্টিলিওনিডি পরিবারের ‘পিপিস্ট্রেল’ বাদুড়ের ছোট প্রজাতি। এরা স্তন্যপায়ী ও উড়ন্ত প্রাণী। বাদুড় আকারে বড় আর চামচিকা ছোট। জীবনযাত্রা ও নিশাচর স্বভাবের কারণে  মানুষের মধ্যে চামচিকা নিয়ে কৌতূহল কাজ করে। মাথা ও শরীর মিলিয়ে চামচিকার দৈর্ঘ্য, ৪-৫ সেন্টিমিটার। তাদের পাখার প্রসারতা ১৮-২৪ সেমি। ওজন ৯ থেকে ১৩ গ্রাম। গায়ে বাদামি রঙের নরম পশম। চামচিকাকে অনেকে অশুভ বললেও, তারা অশুভ শক্তি নয়।  বরং নীরব উপকারী প্রাণী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ব্যাপক অবদান রয়েছে। ক্ষতিকর পোকা দমন করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা বিশাল। দিনভর তারা অন্ধকার  কোণ বা পুরনো দালানের ছাদে ঝুলে থাকে ও রাতে শিকারে বের হয়। চোখে  দেখার পাশাপাশি, তারা বিশেষ শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে অন্ধকার রাতে পথ চলে ও পোকা ধরতে পারে। চামচিকা প্রতিদিন প্রচুর ক্ষতিকর পোকা ও মশা খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। এরা কলা, পেয়ারা, সফেদা জাতীয় ফলের রস শুষে খায়। মূলত তারা খাবারের খোঁজ বা আশ্রয়ের জন্য বাড়িতে আসে। চামচিকার শরীরে কোনো বিষাক্ত গ্রন্থি থাকে না। তারা মানুষকে কামড়ায় না, যদি না এদের আক্রমণ করা হয়। স্ত্রী চামচিকা সাধারণত বছরে দুবার বাচ্চা দেয়।  প্রতিবারে কমপক্ষে দুটি বাচ্চা প্রসব করে।  এদের কামড় বিষাক্ত না হলেও, এরা জলাতঙ্ক বা বিভিন্ন রোগের জীবাণু বহন করতে পারে। তাদের গড় আয়ু ৫-৮ বছর।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত