ডিজেল সার সরবরাহ ও গঙ্গাচুক্তি নবায়ন চায় ঢাকা 

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৬ এএম

বাংলাদেশে ডিজেল ও সার সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সরকার ভারতকে  অনুরোধ করেছে। গতকাল বুধবার দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সফরের সময় এ অনুরোধ করা হয়েছে।

ভারত সরকার বলেছে, ডিজেল ও সার সরবরাহের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দিনের সফরে গত মঙ্গলবার রাতে দিল্লি পৌঁছান। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেদিনই তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তিনি গতকাল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর এক এক্স-পোস্টে বলেন, তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিভিন্ন দিক থেকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও  বৈশ্বিক ঘটনাবলী নিয়েও তারা মতবিনিময় করেছেন। উভয়পক্ষ ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য সরকার গতকাল বুধবার পুনরায় অনুরোধ করেছে।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় ভারতে আশ্রয় নেন। 

গতকালের আলোচনায় উভয়পক্ষ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করে।

ড. খলিলুর রহমান দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী দলের নবনির্বাচিত সরকার সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ (বাংলাদেশ ফার্স্ট) এই নীতির ভিত্তিতে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও পারস্পরিক লাভের ওপর নির্ভর করে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে।

তিনি শহীদ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

কূটনীতিকরা জানান, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় ভারত হয়ে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, ভারতে রপ্তানি বাড়ানো এবং সেখান থেকে জরুরি পণ্য আনা সহজ করার বিষয়গুলো তোলা হয়েছে। এর বাইরে অভিন্ন নদী গঙ্গার পানি বণ্টনের চুক্তির মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার প্রতিও ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়ে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে দেশটিকে অনুরোধ করা হয়েছে।

বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আগে ভারত হয়ে ট্রানশিপমেন্টের মাধ্যমে অন্য দেশে  রপ্তানি হতো। ২০২৪ সালের পর দেশটি কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করায় বাংলাদেশের রপ্তানিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধের একটি বড় বিষয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরের ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন চুক্তি করতে হলে দরকষাকষি শুরু করতে হবে, যা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।

ভারতীয় পক্ষ জানায়, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সেবা আগামী সপ্তাহগুলোতে সহজ করা হবে।

খলিলুর রহমান ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় সম্প্রতি ডিজেল সরবরাহের জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশে ডিজেল ও সার রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

জবাবে হরদীপ সিং পুরি বলেন, ভারত সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে আলোচনা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়।

দুই দেশের কূটনীতিকেরা জানান, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও তার সঙ্গে ভারত সরকার দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে। ড. খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। দুই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে কিছু যোগাযোগ থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকায় নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তৎপর হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত