যুদ্ধবিরতির পরই রক্তাক্ত লেবানন, বিমান হামলায় একদিনে নিহত অন্তত ২৫৪

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৫ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দেশটি। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন, যা চলমান সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ইসরায়েল ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, তারা মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তবে এই ব্যাপক হামলায় অসংখ্য বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই যুদ্ধবিরতির মূল লক্ষ্য ছিল সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়ানো এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে চুক্তির শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু থেকেই মতপার্থক্য দেখা দেয়। ইরান মনে করেছিল লেবাননও এই চুক্তির আওতায় থাকবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা সরাসরি অস্বীকার করে। 

এই হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান ও হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহ এই আক্রমণকে ‘গুরুতর যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, নিরীহ মানুষের ওপর এমন আঘাত তাদের লড়াইয়ের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে এবং তারা পরিকল্পিতভাবে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।

হোয়াইট হাউস ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই এই ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান না আসলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত