ভারতের আসাম, কেরালা ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, আসামে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৮৪.৪২ শতাংশ; ২০২১ সালে আসামে ভোট পড়েছিল ৮২.৪২ শতাংশ। কেরালায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭৫.০১ শতাংশ। গত বিধানসভা ভোটে এখানে ভোট পড়েছিল ৭৫.৬০ শতাংশ। আর পুদুচেরিতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৮৬.৯২ শতাংশ। পাঁচ বছর আগে, ২০২১ সালে পুদুচেরিতে ভোট পড়েছিল ৮৩.৪২ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য এই নির্বাচনকে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়– রাজ্যে ভোটগ্রহণ হবে। ৪ মে পাঁচটি অঞ্চলেরই ফল একযোগে ঘোষণা করা হবে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই চার রাজ্য ও পুদুচেরিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৭ কোটি ৪০ লাখ, যা দেশটির মোট ভোটারের প্রায় ১৮ শতাংশ। এর মধ্যে কেবল আসামেই বিজেপি ক্ষমতাসীন, পুদুচেরিতে তারা ক্ষমতাসীন জোটের অংশ। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা বা তামিলনাড়–তে তারা কখনো এককভাবে সরকার গঠন করতে পারেনি। এই তিন রাজ্যে বিজেপিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোকে, যারা ক্ষমতা ধরে রাখা বা ফিরে পাওয়ার লড়াই চালাচ্ছে।
সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাহুল বর্মা বিবিসিকে বলেছেন এটি বিজেপির জন্য বড় পরীক্ষা, যারা বছরের পর বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ ও দক্ষিণের রাজ্য কেরালা ও তামিলনাড়ুতে জনভিত্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নির্বাচনী প্রভাব ক্রমশ কমতে থাকা কংগ্রেসের জন্য এটি আরও বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, ফলই বলে দেবে কংগ্রেস আসামে কোনো জোরালো চ্যালেঞ্জ গড়তে পেরেছে কি না; কিংবা কেরালায় সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনের সাফল্য ধরে রাখতে পারছে কি না। তাছাড়া বৃহত্তর বিরোধী জোট অভ্যন্তরীণ বিরোধগুলো কীভাবে সামাল দিচ্ছে, তারও একটি আভাস মিলবে এই নির্বাচনে। এই পাঁচটি অঞ্চলে মোট ৮২৪টি আসনের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, ভুয়া বা পুরনো নাম বাদ দিয়ে বৈধ ভোটারদের যুক্ত করতেই তাদের এই পদক্ষেপ। বিরোধীরা বলছে, বিজেপিকে সুবিধা দিতেই লাখ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের বড় অংশই মুসলমান। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।