মানুষ ভুল করে। কখনো জেনে, কখনো না জেনে। ভুলত্রুটি ও গুনাহের কারণে মানুষের অন্তর ভারী হয়ে যায়। তখন মহান আল্লাহর কাছে ফিরে আসাই সবচেয়ে বড় আশ্রয়। ক্ষমা ও রহমত চাওয়ার জন্য কোরআনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দোয়া। এসব দোয়ায় বান্দার অসহায়ত্ব, অনুতাপ এবং মহান আল্লাহর অসীম দয়ার প্রতি গভীর প্রত্যাশা প্রকাশ পায়।
ইরশাদ হয়েছে, ‘রব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খইরুর রাহিমিন।’ অর্থাৎ হে আমার রব! ক্ষমা করুন, রহম করুন। আর আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সুরা মুমিনুন ১১৮)
দোয়াটি অত্যন্ত ছোট। কিন্তু এর আবেদন গভীর। বান্দা এর মাধ্যমে নিজের জন্য মহান আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত কামনা করে। দৈনন্দিন জীবনে এই দোয়া বেশি বেশি পড়া যেতে পারে।
ইরশাদ হয়েছে, ‘রব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আনতা খইরুর রাহিমিন।’ অর্থাৎ হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা ইমান এনেছি। সুতরাং আপনি আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি রহম করুন। আর আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (সুরা মুমিনুন ১০৯)
এই দোয়ায় ইমানের পর ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করা হয়েছে। কারণ আল্লাহর রহমত ছাড়া মানুষের কোনো সফলতা পূর্ণতা পায় না।
ইরশাদ হয়েছে, ‘রব্বানা জলামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খসিরিন।’ অর্থাৎ হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব। (সুরা আরাফ ২৩)
এই দোয়ায় নিজের ভুল স্বীকার করার শিক্ষা রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে মহান আল্লাহর ক্ষমা ও রহমতের প্রতি গভীর প্রত্যাশা। তাই গুনাহ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে আন্তরিকভাবে তওবা করে এসব দোয়া করা উচিত। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। তার দরজা বান্দার জন্য সবসময় খোলা।
লেখক : ইসলামি গবেষক