দীর্ঘ আট মাসেও জামালপুরের মেলান্দহের আলোচিত রিপন হত্যা মামলার চার্জশিট না দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। চার্জশিট না দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম হিমন মামলা আপস করার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। নিহতের পরিবারের দাবি- মামলার সঠিক তদন্ত না করে উল্টো আপস করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং আসামিদের সঙ্গে গোপন বঠকও করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
উপজেলার ঝাউগড়া ইউনিয়নের পলাশতলা গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে রিপনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় মামলা দায়ের করতে যায়। কিন্তু পুলিশ তাদের মামলা নেয়নি। অদৃশ্য কারণে থানা পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ খোকন রবিদাসকে বাদী করে মামলা দায়ের করেন।
জোড়পূর্বক গ্রাম পুলিশ খোকন রবিদাসকে দিয়ে মামলা দায়ের করানো হয়েছে ভাষ্য তার। মামলায় কি লেখা হয়েছে তা জানেন না তিনি। তিনি শুধু স্বাক্ষর দিয়েছেন।
অভিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম হিমন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে মেলান্দহ থানায় কর্মরত আছেন। তিনি রিপন হত্যা মামলার তদন্ত করছেন। মামলার বিষয়ে নিহতের বাবা মোজাম্মেল হক বলেন, গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিবেশীরা চুরির অপবাদ দিয়ে তার ছেলে রিপন মিয়াকে ডেকে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধরক মারধর করে হত্যা করেন। ঘটনার পর পরিবারের লোকজন থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ তাদের মামলা না নিয়ে গ্রাম পুলিশকে বাদী করে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা নেন। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে পরিবারের লোকজন ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মোজ্জাম্মেল হক অভিযোগ করে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. তারিকুল ইসলাম হিমন আবেদন করে আদালতে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে মামলা আপস করার জন্য চাপ দেন এবং আসামিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তদন্তে গড়িমসি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিমন আসামি ও তাদের আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। বিষয়টি তার আরেক ছেলে গোপনে মোবাইলে ভিডিও করেন। ভিডিও করার বিষয়টি টের পেয়ে যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে তিনি আমার ছেলের মোবাইলটি কেড়ে নেন এবং একদিন পর মোবাইলটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। মোবাইল থেকে সব মুছে ফেলে ফেরত দেওয়া হয়। মোবাইলে থাকা সব ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের বড় ভাই ফরিদ ও তার ফুফু অভিযোগ করেছেন, আদালতে আসামিদের দেখিয়ে দিলে সেদিন পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। পরে তারা জামিনে বের হয়ে আসেন। কিন্তু বাকী আসামি গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্তে আর কোনও অগ্রগতি নেই। কখনো আসামি ধরতে পুলিশকে এলাকায় যাইতে দেখি নাই। যে চারজন গ্রেপ্তার হয়েছিল তারাও জামিনে বের হয়ে ঘুরছেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম হিমন। তিনি বলেছেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। নিহতের নামে থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা ছিল। যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন। মোবাইল কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, মামলার বিষয়ে আমি অবগত না। আর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার এই ধরনের কোনকিছু করার সুযোগ নেই। তারপরেও বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। হত্যা মামলার চার্জশিট আটকিয়ে রাখার কোনও সুযোগ নেই। হয়তো এখনও প্রতিবেদন হাতে পায় নাই। প্রতিবেদন হাতে পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে|।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মোছা.ফারহানা ইয়াসমিন বলেছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
