রাজধানীতে খতনার সময় শিশুর অঙ্গহানি, আটক ১

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৫ এএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর অঙ্গহানির অভিযোগ উঠেছে এক কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ঢাকা উদ্যান এলাকার ‘খলিল মেডিকেল’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মার্চ সকালে শিশু আতিকুর রহমানকে খতনা করানোর জন্য ঢাকা উদ্যানের খলিল মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। খতনার সময় চিকিৎসকের চরম অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে শিশুটির পুরুষাঙ্গের সামনের অংশ কেটে গুরুতর জখম হয়। তাৎক্ষণিকভাবে রক্তক্ষরণ শুরু হলে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তীতে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছে পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে দায় স্বীকার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হলে তারা সমাধান না দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি-ধমকি প্রদান করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খলিল মেডিকেলের পরিচালক খলিল মূলত কোনো চিকিৎসক নন। তিনি একজন ফার্মাসিস্ট, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর এ-১০৩০৪৫। চিকিৎসক না হয়েও তিনি অস্ত্রোপচারের মতো স্পর্শকাতর কাজ করে আসছিলেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মোহাম্মদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার। এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা অভিযোগ পাওয়া মাত্রই একজনকে আটক করেছি এবং মামলা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্নতে খতনার মতো সার্জিক্যাল বিষয়ে অবশ্যই নিবন্ধিত ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। অদক্ষ বা ভুয়া চিকিৎসকের মাধ্যমে এ ধরনের কাজ করানো জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত