স্কুলের তালাবদ্ধ রুমে মুখে টেপ হাত-পা বাঁধা শিশু

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) মুখে টেপ জড়ানো ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় স্কুলেরই একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে পরিবার। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন মিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম। মেয়েটি বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ওই ছাত্রীর দাদি জানান, তার নাতনি গত বৃহষ্পতিবার সকাল ৯টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে যায়। দুপুরে অন্য বাচ্চারা বাড়ি ফিরে এলেও তার নাতনি ফেরেনি। তাই তিনি আশপাশের অন্য বাচ্চাদের কাছে ও সম্ভাব্য সব জায়গায় নাতনির বিষয়ে খোঁজ নেন। পরে মেয়েটির সহপাঠীরা বিকেলের দিকে স্কুলে যায় আবারও খোঁজ করতে। ওই সময় স্কুলের দপ্তরি হমিদুলকে স্কুলের তালা খুলে দিতে বললে দপ্তরি চাবি দিতে অস্বীকার করেন। ফলে ছেলেমেয়েরা ফের বাড়ি ফিরে আসে। পরে পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়স্বজন মিলে রাত ৮টার দিকে স্কুলে গিয়ে দপ্তরির কাছ থেকে জোর করে চাবি নিয়ে স্কুলের তালা খুলে দেখতে পায় নিচতলায় মেয়েটির স্যান্ডেল ও দোতলায় স্কুল ব্যাগ পড়ে আছে। তাকে  তিনতলার একটি কক্ষ থেকে হাত-পা বাঁধা মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে মিরপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। 

ওই ছাত্রীর ফুফু অভিযোগ করেন, ‘যেহেতু বিকেলে সহপাঠীরা স্কুলে গিয়ে স্কুল খোলার জন্য দপ্তরির কাছে ছুরানি (চাবি) চাইলে দপ্তরি ছুরানি দেননি, আবার রাতে গিয়ে ওর কাছ থেকে জোরপূর্বক ছুরানি কাড়ি (ছিনিয়ে) নিয়ে স্কুল খুলে সেখানে এই অবস্থায় পাওয়া গেছে, এতে বুঝা যায় যে-ই আমার মেয়ের সঙ্গে যা কিছুই করুক, দপ্তরি সব জানেন।’

এ বিষয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমাদের স্কুলে এসএসসি-২০২৬ ব্যাচের ছাত্রছাত্রীদের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলে। যেহেতু এদিন কোনো পাঠদান কার্যক্রম ছিল না সে কারণে অনুষ্ঠান শেষে স্বাভাবিকভাবেই সব শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যায়। আমাদের শিক্ষকরাও সবকিছু গোছগাছ করে সবাই বাড়ি চলে যান। পরে শুনি রাত ৮টার দিকে স্কুলের তালা খুলে তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে হাতা-পা বাঁধা ও মুখে টেপ মোড়ানো আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এটা নিশ্চিত যে তার সঙ্গে কেউ খারাপ কিছু করেছে। শিক্ষক হিসেবে আমরা কেউই এর দায় এড়িয়ে যেতে পারি না। মেয়েটির সঙ্গে যা কিছুই ঘটুক, এর সুষ্ঠু তদন্তসহ প্রকৃত দোষী ব্যক্তির শাস্তি চাই।’

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হোসেন ইমাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রেফার্ড হয়ে আসে শিশুটি। হাসপাতালের যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী আমরা গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করি এবং ভিকটিম ও তার পরিবারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকি। কিন্তু পরিবার বা ভিকটিম কেউ কোনো তথ্যই দিচ্ছিল না। পরে শুক্রবার সকালে গাইনি বিভাগের চিকিৎসক দিয়ে মেয়েটির মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্তব্যরত গাইনি চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে ধর্ষণ হওয়ার আলামত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রোগী সুস্থ এবং গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থা আছে।’

মিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমি নিজেও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওই বাচ্চার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতজনিত কালশিরা ক্ষত রয়েছে। কিন্তু ঘটনার বিষয়ে বাচ্চাটা এবং তার পরিবার কিছুই বলছে না। তবে এটা ঠিক, যে অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাতে ওর ওপর অবশ্যই কেউ অপরাধ সংঘটন করেছে। একটু ধৈর্য ধরুন শিগগিরই এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে পুলিশ। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত