জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে আশুরা নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার সাবেক স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ক্ষেতলাল বিলেরঘাট সোতার গুচ্ছগ্রাম এলাকা থেকে আশুরার লাশ উদ্ধার করে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে ক্ষেতলাল মামুদপুর ইউনিয়নের আইমাপুর নামাজগর মাঠের একটি অগভীর নলকূপ ঘর থেকে সাবেক স্বামী বাবলুকে আটক করে পুলিশ। স্থানীরা বলছেন আশুরাকে দিনভর সঙ্গে রাখার পর সাবেক স্বামী বাবলু হত্যা করে তাকে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে চলে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আটি দাশরা মৌজার সোতার গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন ধানক্ষেতে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আশুরা একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বাবলুর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাবলুর তিন স্ত্রী ছিল, এর মধ্যে আশুরা ছিলেন তৃতীয়। বিচ্ছেদের পর আশুরা তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং যৌতুকের মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার দিন বাবলু তাঁর সাবেক স্ত্রী আশুরাকে নিয়ে দিনভর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন। এমনকি স্থানীয় বাজারেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই দিনই বাড়ির পাশের সোতার পুকুর আদর্শগ্রাম এলাকায় ধানক্ষেতে আশুরাকে হত্যা করে। মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের মাথার পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি স্যান্ডেল, গেঞ্জি ও কাদামাখা লুঙ্গি উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা আরো বলেন, ধানের ফসলি জমির কাদাতে হত্যার সময় ধস্তাধস্তি করা হয়েছে।
ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক স্বামী বাবলুকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে ও প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
