পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের ওপর পুনরায় বিমান হামলা চালানোর কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
অজ্ঞাতনামা মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, রবিবার (১২ এপ্রিল) ট্রাম্প কর্তৃক ঘোষিত হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের পাশাপাশি এই বিমান হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে হোয়াইট হাউস।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বিবিসিকে জানান, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে ইরানের ‘জবরদস্তি’ বন্ধ করা যায়। তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে সব পথই খোলা রাখছেন। তবে যারা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলছে যে তারা প্রেসিডেন্টের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানে, তারা নিছক অনুমাননির্ভর কথা বলছে।
ইসলামাবাদে সমঝোতা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ডিসির অদূরে 'জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ'-এ পৌঁছান ট্রাম্প। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, ইরান এখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা লালন করছে এবং আলোচনার টেবিলে তারা সেই আভাস দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, তারা এখনো পরমাণু অস্ত্র চায় এবং গত রাতে তারা সেটি স্পষ্ট করেছে। কিন্তু ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র পাবে না। তিনি আরও যোগ করেন, তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগে অনিচ্ছুক বলেই সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
তবে এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছিলেন, উভয় পক্ষ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের 'সর্বোচ্চ চাপ, ঘনঘন লক্ষ্য পরিবর্তন এবং অবরোধের' কারণে সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
ইরান যদি আর কখনো আলোচনার টেবিলে না ফেরে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা ফিরে আসুক বা না আসুক, আমি পরোয়া করি না। তারা না ফিরলে আমি ভালোই থাকব।’ তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বর্তমান যুদ্ধবিরতি 'ভালোভাবে বজায় আছে' বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের দুই আরোহীকে উদ্ধারের বিষয়েও হালনাগাদ তথ্য দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি জানান, উদ্ধারকৃত দুই বৈমানিক বর্তমানে বেশ ভালো আছেন এবং তাদের সাহসিকতায় দেশ গর্বিত।
উল্লেখ্য, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর একজন পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্য একজন ‘ওয়েপন সিস্টেম অফিসার’ ইরানের পাহাড়ি এলাকায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তারা উভয়ই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি
