প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিনর গ্রুপের সিইওর সাক্ষাৎ

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার তার বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বাংলাদেশের ডিজিটাল উন্নয়নে টেলিনরের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় টেলিনর প্রতিনিধিদলে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমানসহ টেলিনর ও গ্রামীণফোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশে টেলিনরের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় তরুণ জনগোষ্ঠী, দ্রুত ডিজিটাল জীবনধারা গ্রহণের প্রবণতা এবং ক্রমবর্ধমান উদ্ভাবন ইকোসিস্টেমের কল্যাণে বাংলাদেশে ডিজিটাল-নির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার শক্ত ভিত্তি রয়েছে বলে উভয় পক্ষ আস্থা ব্যক্ত করে।

বেনেডিক্টে শিলব্রেড ফাসমার আরও উল্লেখ করেন, এশিয়ায় টেলিনরের জন্য বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংযোগ সম্প্রসারণ, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি জোরদার এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক এমন দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে টেলিনর।

আলোচনায় তরুণ বাংলাদেশিদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) ভবিষ্যৎ-উপযোগী দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়; যা দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এবং সরকারের বৃহত্তর উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক। এতে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে।

নিরাপদ ও স্মার্ট আগামী গড়ার অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে টেলিনর ও গ্রামীণফোন বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার ওপর তাদের আস্থা এবং দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে। আলোচনায় টেকসই অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে এবং সমাজের জন্য ডিজিটাল সংযোগের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে একটি পূর্বানুমেয় এবং বিনিয়োগবান্ধব নিয়ন্ত্রক ও নীতিগত পরিবেশের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

রবিবার থেকে চালু হচ্ছে ভারতীয় ভিসা : ভারত সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সাক্ষাতে ভারত সফরের বিস্তারিত প্রধানমন্ত্রীকে তারা অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আগামী রবিবার থেকে চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক ভিসা খুলে দেওয়ার বিষয় ভারত সম্মত হয়েছে। ভালো মাইন্ড সেট থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’

গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তিন দিনের সফরে দিল্লি যান। এ সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনা করেন তারা। বৈঠকের বিষয়বস্তু জানাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, দুই স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পাইপ লাইনে ডিজেল দেওয়ার কারণে দেশটিকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরানো হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া তাকে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সম্প্রতি তাদের (পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তিনি নিজে) ভারত সফর দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বিএনপি যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত, সেহেতু ভারত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে কোনো সমস্যা হবে না। যেটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হয়েছিল বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর দক্ষিণ এশিয়ার কেনো একটি দেশ দিয়েই শুরু হবে, সেটি কোন দেশ সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং স্বার্থরক্ষা করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মেডিকেল ও ব্যবসায়িক ভিসা চালুর বিষয় আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পহেলা বৈশাখে শুরু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি : সচিবালয়ে কৃষি ও কৃষিজাত শিল্পে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে প্র্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রবাসীকল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পহেলা বৈশাখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে “কৃষক কার্ড” বিতরণ কর্মসূচি। দেশের কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং কৃষি খাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এটি প্রক্রিয়াগত বিষয়। আমরা যত দ্রুত সম্ভব, এটি উন্মোচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’

মালেশিয়ায় জনশক্তি পাঠাতে আরও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং অভিভাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চাই, স্বল্প খরচে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আমাদের মানুষ যেন যেতে পারেন। মালেশিয়াকে আহ্বান জানিয়েছি, এ প্রক্রিয়াকে সিন্ডিকেটমুক্ত করার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, তা যেন করে। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত আন্তরিক, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও আন্তরিকতা দেখিয়েছেন।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সাক্ষাতে সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং তার মালয়েশিয়া সফর ও সেখানকার নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত