আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকদের বহনকারী একটি নৌকাডুবির ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়াগামী নৌকাটি প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে উল্টে গেছে। তবে নৌকাটি কখন ডুবেছিল তা স্পষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, এখন পর্যন্ত এসব যাত্রীর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা অজানা রয়ে গেছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এবং আইওএম এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির ভয়াবহ মানবিক মূল্য এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধানের অব্যাহত অভাবকে তুলে ধরেছে। তারা বাংলাদেশে শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সহায়তা এবং জরুরি সাহায্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বলেছে যে, গত ৯ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়াগামী তাদের একটি জাহাজ উল্টে যাওয়া ট্রলার থেকে এক নারীসহ ৯ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
কোস্টগার্ডের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, জাহাজটি ‘ড্রাম ও কাঠের গুঁড়ি ব্যবহার করে সমুদ্রে ভাসতে থাকা বেশ কয়েকজনকে দেখতে পেয়ে গভীর পানি থেকে তাদের উদ্ধার করে।’
২০১৭ সালে প্রাণঘাতী দমন অভিযানের পর থেকে মিয়ানমারের অন্যতম জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের সাড়ে সাত লাখ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। বৌদ্ধ-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মিয়ানমার সরকার মুসলিম রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয় না।
গত সপ্তাহের ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধৃতি দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কোস্টগার্ড সদস্য বিবিসিকে বলেন, তারা ‘উন্নত জীবনের আশায়’ ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ৭ বা ৮ এপ্রিল তাদের নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়েছিল। সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
