২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক নতুন স্বপ্ন বুনছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। দীর্ঘমেয়াদী নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দলের ভেতর এক ধরনের স্থিরতা ও আত্মবিশ্বাস কাজ করছে বলে মনে করেন তিনি। আজ মিরপুরে নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ স্পষ্ট জানান, সঠিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেলে আগামী বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য পাবে।
প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব ও বিশ্বকাপের লক্ষ্য
যদিও ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়াটা বাংলাদেশের জন্য এখনও সমীকরণের মারপ্যাঁচে আটকে আছে, তবে মিরাজ বর্তমান দলের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে রেটিং পয়েন্টে বেশ এগিয়ে যাবে। মিরাজ বলেন:
“২০২৭ বিশ্বকাপ অবশ্যই একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার এবং লম্বা সময়ে ব্যাপার। তখন পর্যন্ত যেতে গেলে কিন্তু প্রক্রিয়াটা ধরে রাখতে হবে এবং সিরিজ ধরে ধরে ভালো খেলতে হবে। গত দুটি সিরিজ আমরা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছি, প্রক্রিয়াটা ভালো ছিল এবং ক্রিকেটাররাও অনেক আত্মবিশ্বাসী।”
দীর্ঘমেয়াদী অধিনায়কত্বের সুবিধা
বিসিবি মিরাজের ওপর ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ভরসা রাখায় দল গোছানোর পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে অধিনায়কের ভাষ্য: “লম্বা সময়ের জন্য একজন অধিনায়ক যদি থাকে, একটা দলকে খুব ভালোভাবে বন্ডিং করাতে পারে। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আমি বলি না যে কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া হোক। কারণ দিন শেষে তার জন্য অনেক কঠিন একটা দলকে বন্ডিং করানো। কাজেই আমার কাছে মনে হয় এটা একটা ইতিবাচক দিক। আমি খুব ভালো মতো পরিকল্পনা করতে পারব প্রত্যেকটি সিরিজ। কোন কন্ডিশনে আমরা খেলব এবং ক্রিকেটাররাও মানসিকভাবে মুক্ত থাকবে যে, আসলে আমরা কার নেতৃত্বে খেলব। এটাও একটা দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”
দলগত পারফরম্যান্সই সাফল্যের চাবিকাঠি
বিগত দুটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক ছিল না। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপে ভালো ফল পাওয়ার ব্যাপারে মিরাজ যোগ করেন, “আমি অবশ্যই অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বাস রাখি, আমাদের যে দলটা আছে, আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছি এবং আমরা ভালো একটা ফল করতে পারব (২০২৭ বিশ্বকাপে)। আমাদের অনেক কঠিন পরিস্থিতি আসবে, সেগুলো পার করতে হবে। আমরা যদি সবাই একসঙ্গে ভালো ক্রিকেট খেলি, যার যার জায়গায় পারফর্ম করার চেষ্টা করি, তাহলে আমার কাছে মনে হয় এই কাজটা সহজ হয়ে যাবে।”
অধিনায়ক আরও মনে করিয়ে দেন যে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলগত ঐক্যই বেশি জরুরি। তার মতে, “ক্রিকেট খেলাটা কিন্তু ব্যক্তিগত খেলা নয়। প্রত্যেকটি ক্রিকেটার যার যার জায়গা থেকে পারফর্ম করতে হবে। আমরা যদি দলগতভাবে একসঙ্গে হয়ে খেলতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।”
ক্রিকেটারদের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার দর্শন
পাকিস্তান সিরিজে একই একাদশ নিয়ে খেলার সমালোচনা হলেও মিরাজ তার অবস্থানে অনড়। তিনি চান প্রত্যেক ক্রিকেটার যেন নিজেকে প্রমাণের পর্যাপ্ত সুযোগ পান। সাইফ হাসান বা তানজিদ তামিমদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন:
“একজন খেলোয়াড়কে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া উচিত। আমার মতে একজন ব্যাটসম্যানকে এক–দুই ম্যাচ খেলানো যথেষ্ট নয়। যদি তিন থেকে চারটা ম্যাচ খেলে একই জায়গায়, তখন সে নিজে থেকেই বুঝতে পারবে যে আমি পারফর্ম করতে পারিনি। অধিনায়ক হিসেবে আমি চাই একজন ব্যাটসম্যান যেন তার জায়গায় পর্যাপ্ত সুযোগ পায়। সে যেন নিজের বিষয়টাও বুঝতে পারে। অধিনায়ক হিসেবে আমার পরিকল্পনা হচ্ছে প্রতিটি ব্যাটসম্যান যেন একই সুযোগ পায়।”
দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের (যেমন সৌম্য সরকার) সুযোগ পাওয়া নিয়ে সংশয় থাকলেও মিরাজ আশ্বস্ত করে বলেন, “প্রতিটি ক্রিকেটারই সুযোগ পাবে। কারণ, আমাদের একটা সিরিজ না, বিশ্বকাপের আগে অনেক ম্যাচ আছে। অধিনায়ক হিসেবে আমি বিশ্বাস করি প্রতিটা খেলোয়াড়ই তার জায়গায় সুযোগ পাবে।”
সবশেষে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ফর্ম ও ছোট ছোট অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরে মিরাজ বলেন, 'একটা ব্যাটসম্যান ফর্মে থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শেষ যে সিরিজটা খেলেছি, সেখানে একশ রানের উদ্বোধনী জুটি ছিল। এটাও আমাদের দলের জন্য একটা অ্যাডভান্টেজ ছিল। যদি শুরুতেই উইকেট পড়ে যায়, একটা দলের অনেক চাপ চলে আসে। আমরা হয়তো অনেক সময় হিসাব করি যে অনেক বড় স্কোর করেছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ১০–২০–২৫ রানও অনেক প্রভাব রাখতে পারে।”
আগামীকাল থেকে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া নিউজিল্যান্ড সিরিজে এই নতুন মানসিকতা ও পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামবে টিম টাইগার্স।
